ads

যুবসমাজের চাকরির জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই : জয়

জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যুবসমাজের চাকরির জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। আইটি সেক্টর তাদের চাকরির অবারিত সুযোগ দেবে।

 

 

রোববার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিপিও সামিট-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

ক্রিয়েটিভ ইকোনমি তথা সৃজনশীল অর্থনীতি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদফতর এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বিএসিসিও) যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

 

এতে দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিপিও খাতের সঙ্গে জড়িতরা এতে অংশ নিয়েছেন। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিপিও সামিট অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় এই সামিটে আউটসোর্সিং খাতকে আরও কীভাবে ভালো করা যায় সে বিষয়ে বিশ্বকে জানাতে এবং সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে বিপিও খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বাংলাদেশকে আইসিটি হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনারও হবে। এই সম্মেলনে ১৩টি সেমিনারে ৮০ জন স্থানীয় ও ৩০ জন আন্তর্জাতিক স্পিকার অংশ নেবেন।

 

 

সজীব ওয়াজেদ জয় সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের ওপর জোর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিইনি। এর মধ্য দিয়ে আমরা ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধ করতে চাই। তাই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন খুব সতর্কভাবে ডিজিটাল অ্যাবইউজ-এর বিরুদ্ধে কাজ করবে।এটা দেশের সবার জন্যেই ভালো ফল নিয়ে আসবে। এটি বাক স্বাধীনতার উপর আঘাত নয় বরং বাক স্বাধীনতারই সুরক্ষা দেবে।

 

 

সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে, ইন্টারনেটে যে সব ভুয়া পোস্ট আসে সেগুলোর নেতিবাচক প্রভাব থেকে আমাদের সুরক্ষা দেবে এই আইন। আইসিটি শিল্প ক্রমেই এগিয়ে চলছে দেশবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থেই ডিজিটাল পদ্ধতির সুব্যবহার করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে ৯৯৯ (ট্রিপল নাইন) কল সেন্টার চালু করেছি। যার সুফল দেশবাসী পাচ্ছে। আমরা কয়েকদিন আগেও (ট্রিপল থ্রি) ৩৩৩ চালু করেছি। যার মাধ্যমে দেশের মানুষ সরকারি সকল তথ্যসুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা আরও বলেন, বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের আইটি সেক্টরকে তুলে ধরতেই এ বিপিও সামিট আয়োজন করা হয়েছে। আইসিটি খাতের আয় গার্মেন্টস খাতকে ছাড়িয়ে যাবে। চাকরির জন্য আর সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেই তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে সহায়তা চায়। সরকারের কর্মপরিকল্পনার কারণে ছেলেমেয়েরা মফস্বল শহরে বসে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। সরকার বিদ্যুতের নিশ্চয়তা ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

 

 

আগামী দিনে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকার আইসিটি খাতে রূপকল্প টুয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়নে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিসহ জিডিপিতে ৫ শতাংশ অবদান নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আর আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং খাতে ১ লাখ কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই বিপিও সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

 

সভাপতির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ আইসিটি খাতে মাত্র ১৪ বছরের ইতিহাসের মধ্যে এই বিষয়টিকে সারা পৃথিবীর কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব কিংবা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্বে দেওয়ার জায়গায় আমরা পৌঁছেছি। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।

 

 

চলতি মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এখন যে সংকটের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি পড়ে আছি- সেই সংকটটি হচ্ছে আমাদের প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিতদের যারা আসছে, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

 

 

এখন যারা প্রোগ্রামিং জানে, তাদের জন্য সারাবিশ্বেই চাকরির অবারিত সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমাদের সংকটটি হচ্ছে, আমরা সেই পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোগ্রামার তৈরি করতে পারি নাই। অথবা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটা গ্যাপ রয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের যে শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল, সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে গড়ে তুলেতে পারিনি এবং এই পারাটাও আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।

 

 

স্বাধীনতার পরে আমাদের শিক্ষার হার শতকরা ২০ ভাগও ছিল না। তাই আমাদের সরকারকে প্রথমত চিন্তা করতে হয়েছে আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলমুখী করতে পারি কি না? তার কাছে বই পৌঁছে দিতে পারি কি না? তাকে ধরে রাখতে পারি কি না? এখন আমরা সেই স্তরটি অতিক্রম করতে পেরেছি। তাই এখন আমাদের প্রয়োজন রয়েছে, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর করা। এ জন্য চলতি শিক্ষাবছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মাঝে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

 

রোববার দ্বিতীয় দিনে ৪টি সেশন, একটি ওয়ার্কশপ এবং সমাপণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সামিটের সমাপ্তি হবে।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

 

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং’র সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com