ads

রাজনীতিতে বিরল প্রজাতির খোঁজে

জাহিদ আহসান রাসেল

মো. মুজিবুর রহমান

 

 

লেখনীর শিরোনামটি হলো রাজনীতিতে বিরল প্রজাতির খোঁজে। শিরোনাম অনুযায়ী বলছি রাজনীতিতে বিরল প্রজাতির খোঁজে আছি। সেই বিরল প্রজাতি পাবো কি না জানি না। এরই মাঝে অন্যরকম এক অনুষ্ঠানের খোঁজ পেয়ে গেলাম। যে অনষ্ঠানটি বিদগ্ধ মানুষের হৃদয় জগতকে আন্দোলিত, আলোড়িত করেছে, শিক্ষার্থীর মননে আদর্শিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করেছে ,অনুষ্ঠানটি ছিল গাজীপুরের কাজী আজিমউদ্দিন কলেজে। তারিখটা ছিল ২৭ মার্চ ২০১৮ রোজ মঙ্গলবার।

 

 

গাজীপুরের ১৬০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধার (১৫৯ জন জীবিত ও একজন মরণোত্তর) জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান । এ সংবর্ধনার আয়োজনটি হয়েছে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ব্যক্তিগত আগ্রহ ও তাঁর নেতৃত্বে। তিনি ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। তাঁর পক্ষে দাওয়াত নিয়ে যাওয়া হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে বাড়িতে। দাওয়াতের কাজটি সম্পন্ন করেন ওই কলেজের সাত জন শিক্ষক। ছাপানো দাওয়াত কার্ড ছিল না তাদের সঙ্গে । সেই দৃশ্যপট মনে রাখার মতন বলে সেই সাতজন শিক্ষকের ভাষ্য । শিক্ষকদের আরও ভাষ্য হচ্ছে এক অনবদ্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে ।

 

 
বিরল বা তাৎপর্য ঘটনাটি যা ঘটেছে তা হচ্ছে ২৭ মার্চ এর জন্য কাজী আজিম উদ্দিন কলেজে বড় মঞ্চ বানানো হলো কিন্তু প্রধান অতিথি মঞ্চ আসন গ্রহণ করলেন না। প্রধান অতিথি ঘোষণা দিলেন ১৫৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দর্শক সারিতে বসিয়ে তিনি মঞ্চের উপরে আসন গ্রহণ করবেন না। যে কথা সেই কাজ। মঞ্চের আসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে দর্শক সারিতে নেয়ে আসা হলো । ঠিকই প্রধান অতিথি মঞ্চে আসন গ্রহণ না করে দর্শক সারিতে বসে থাকলেন পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ( প্রায় আট ঘন্টা ) । প্রধান অতিথি মঞ্চে উঠলেন ভাষণ দেওয়ার জন্য এবং ১৫৯ জন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধিত করার সময়। তারপর আবার দর্শক সারিতে বসে রইলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে প্রধান অতিথি দুপুরের খাওয়া খেলেন (যদিও অনুষ্ঠানের আয়োজকগণ প্রধান অতিথির জন্য আলাদা করে খাওয়ার ব্যবস্থার চেষ্টা করেছিল কিন্তু কাজ হয় নি )।

 

 
মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তুলেন। এ রকম অনবদ্য আয়োজনের মাধ্যমে প্রধান অতিথি সম্মান দেখালেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। কেননা তাঁরাই তো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। অনুষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষার্থী (সংখ্যা গণনা করা সম্ভব হয় নি), অভিভাবক, শিক্ষকগণ প্রত্যক্ষ করলেন প্রধান অতিথির ব্যতিক্রমধর্মী মনোভাব বা অনুভবের অবস্থানটুকু। এ কি অনুভব। মনে হলো অন্যরকম ভালবাসা। মাত্রার দিক থেকে মনে হলো ভিন্নরকম মূল্যবোধ এবং সম্মানবোধ। প্রধান অতিথি যে সম্মান প্রদর্শন করলো যা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সম্মান করলে সম্মান পাওয়া যায় বা একদিন সম্মান পাওয়া যাবে অন্যভাবে বললে বলা যায় সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয়- এ প্রত্যয় কারোর জন্য বৃথা যাবে না । অন্যদিকে ওই মহতী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম।

 

 
প্রধান অতিথি প্রধান অতিথি বলে অনেকবার লিখলাম এ লেখনীতে। কে সেই প্রধান অতিথি? তিনি হলেন গাজীপুরের দীপ্তিশালী তরুণ রাজনীতিক মাননীয় সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল। তাঁর আরো নানাবিধ কর্ম অনুযায়ী পরিচয় রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো মেহনতি মানুষের প্রবাদপুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপির সুযোগ সন্তান । তাঁরই এ সুযোগ্য সন্তান মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এমপি মহিমান্বিত মার্চেই অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বলে মনে হয়েছে। এ দৃষ্টান্ত স্মরণ করবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা যেদিন যাঁরা সংবর্ধিত হলেন। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভিন্ন মাত্রার অবস্থান থেকে রাজনীতিতে বিরল প্রজাতির খোঁজের আমার কাজটি তরান্বিত হতে পারে ও অনুপ্রেরণা পেতে পারি হয়তো। শেষে দীপ্তিশালী তারুণ্যের প্রতীক মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি’র সফল কর্মময় জীবন এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

 

 

[লেখক: কলেজের শিক্ষক ও আর্কাইভস ৭১–এর প্রতিষ্ঠাতা।]

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com