ads

তারেক রহমানকে ফেরাতে সরকারের তৎপরতায় বৃটেন যা বলছে…

তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা ও লণ্ডন : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারেক রহমানকে ফেরানোর ব্যাপারে বৃটেনকে অনুরোধ জানানোর বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

 

 
তিনি বলেছেন- ফেব্রুয়ারিতে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বাংলাদেশ সফরের সময় তারেক রহমানকে দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। তখন বরিস জনসন ২০০৩ সালের আসামি প্রত্যর্পণ আইনের আওতায় নতুন করে চিঠি লেখার পরামর্শ দেন বর্তামন সরকারকে। মূলত তার কথার সূত্র ধরে এ বিষয়ে নতুন করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। শিগগিরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ চিঠি পাঠাবেন।

 

 
এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একাধিক মামলার পলাতক আসামি তারেক রহমানকে বিচারের জন্য দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বৃটেনের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তবে বৃটেন ওই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি।

 

 
লন্ডনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- আসামি প্রত্যর্পণ আইনের আলোকে নতুন করে বৃটেনকে চিঠি লিখলেও তারেক রহমানকে ফেরানোতে বেশ জটিলতা রয়েছে। প্রথমত এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে আসামি প্রত্যর্পণের কোনো চুক্তি নেই। দ্বিতীয়ত: অভিযুক্ত হলেও কোনো ব্যক্তিকে বৃটেন সরকার দেশে ফেরত পাঠাতে চাইলে দেশটির আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

 

 
ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন- ভারতের আদলে বৃটেনের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা চুক্তি (এমএলএটি) সই করার চিন্তা রয়েছে বাংলাদেশের।

 

 
উল্লেখ্য, তারেক রহমান দীর্ঘ ৯ বছর ধরে লন্ডনে থাকলেও তিনি কোনো ধরনের ভিসা বা স্ট্যাটাসে সেখানে রয়েছেন তা কখনই প্রকাশ করেনি বৃটেন। তারেক রহমান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন মর্মে বিএনপির তরফে দাবি করা হলেও বৃটেন কিংবা বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কখনই কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি।

 

 
গত ১৫ মার্চ লন্ডনে অনুষ্ঠিত দু’দেশের কূটনীতিকদের বাৎসরিক সংলাপে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের পক্ষ থেকে বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে সেখানে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ সম-সাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, বিশ্ব-রাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহায়তাসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়েই কম-বেশি আলোচনা হয়েছে।

 

 
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ লন্ডনে অনুষ্ঠিত দু’দেশের কূটনীতিকদের বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক পারস্পরিক আইনি সহায়তা ও আসামি প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে বৃটেন রাজি হলেও বাংলাদেশ সরকার যে প্রক্রিয়ায় তারেক রহমনাকে ফেরাতে চায়, তাতে বৃটেনের সায় পাওয়া যায়নি।

 

 
এদিন (১৫ মার্চ) লন্ডনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বৃটিশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের পার্লামেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি সাইমন ম্যাকডোনাল্ড।

 

 
তিনি নিজে থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলেন এবং আসন্ন একাদশ নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে হবে বলে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লন্ডন বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বৈঠকের পরেরদিন এই প্রতিবেদককে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় নিয়েই আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে? জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘তারা (বৃটিশ প্রতিনিধি দল) অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করেন নির্বাচনটি ঠিকমতো হবে। আমরা বলেছি- সরকার এ নিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।’

 

 
কূটনীতিক সূত্র জানিয়েছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বৃটেনকে নতুন করে চিঠি লিখছে বাংলাদেশ।

 

 
সদ্য সমাপ্ত লন্ডন বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তসহ নানা রকম আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে বৃটেন অঙ্গীকার করেছে।
এর আগে সম্প্রতি ঢাকাস্থ বৃটেনের হাইকমিশনার এলিসন ব্লেক বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে উদ্ধৃত করে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন,, বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর কালে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে গেছেন।

 

 
বৃটেন খুব শক্ত ভাবেই বিশ্বাস করে যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বড় একটি বিষয়। আর এটাই একটি দেশের সম্ভাব্য সেরা উপায়। যার মধ্যে দেশের ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। সেই সঙ্গে এমন একটি সমাজ তৈরি হয় যেখানে সবাই নিজেকে অংশীদার মনে করবে, সেই সঙ্গে সবার কথা বলার অধিকার থাকবে। আর এর মাধ্যমে সমাজ শক্তিশালী ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

 

 
সর্বশেষ খবর হলো, বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ পত্র পাঠাচ্ছে- তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে। আর বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধিরা বলছেন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

 

 

বিএনপিতে যে শঙ্কা প্রকট হচ্ছে

 

 

 

কৌশলে ভোটের মাঠে মাশরাফি!

 

 

 

কপাল পুড়ছে হেভিওয়েটদের : তরুণরাই হচ্ছেন নৌকার মাঝি

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com