ads

খালেদা জিয়া কারাগারে : ৫ বছরের কারাদণ্ড

খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা: চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে। জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাকে নাজিউমদ্দিন রোডের এই কারাগারে থাকতে হবে।

 

 

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালত থেকে একটি সাদা রঙের ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়িতে করে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণ করতে হল।

 

 

এর আগে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় ঢাকার বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন। ৪০৯ ও ১০৯ ধারা মোতাবেক আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়া বিনাশ্রম ও অন্য পাঁচ আসামি সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন বলে জানিয়েছে আদালত।

 

 

বাকি চার আসামি হলেন- সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

 

 

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করেন এবং রায় পড়া শুরু করেন। শুরুতে তিনি ৬৬২ পৃষ্ঠার রায়ের পুরোটা না পড়ে ১৮ মিনিট পড়েন বিচারক।

 

 

এর আগে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপ আর ধরপাকড়ের মধ্যে দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে বকশীবাজার কারা অধিদপ্তেরর প্যারেড মাঠে বিশেষ জজ আদালত-৫ এর এজলাসে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া।

 

 

সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ মামলার অপর দুই আসামি ব্যবসায়ী সলিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদকে আদালতে আনা হয়। এরপর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিশেষ আদালতে এসে পৌঁছান।

 

 

খালেদা জিয়া সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বের হন। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মগবাজার এলাকায় এলে শত শত নেতাকর্মী সেখানে যুক্ত হন। এ সময় রাস্তার পাশেও অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সেখানে যুক্ত হন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের ধাওয়া-ধাওয়া পাল্টা, সংঘর্ষ ও আটকের ঘটনা ঘটে।

 

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com