ads

ধর্ষিত হওয়াটাই কী পূর্ণিমার চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা!

পূর্ণিমা

বর্ষা জানভীর

 

 

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মেয়ের সঙ্গে তার কয়েকটি ছবি পোস্ট করে স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘মনে পড়ে সেই পূর্ণিমাকে? ২০০১ এর ১ অক্টোবর নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি-জামাতের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৪ বছরের মেয়েটি। হ্যাঁ, আমি সিরাজগঞ্জের সেই পূর্ণিমা শীলের কথা বলছি। আজ আমি গর্বিত আমি পূর্ণিমাকে আমার পার্সোনাল অফিসার হিসাবে নিয়োগ দিলাম। পূর্ণিমা, তোমাকে আমরা ভুলে যাইনি। জীবনের অন্ধকার রূপ তুমি দেখেছো, আলোর জগতে তোমায় স্বাগতম…। শুরু হোক নতুন পথচলা। তোমাকে অভিবাদন প্রিয় পূর্ণিমা।’

 

 

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে একশ্রেণীর মানুষ তারানা হালিমকে সাধু সাধু বলে রব তুলেছেন। পূর্ণিমাকে চাকরি দিয়ে সত্যিই কী তিনি সাধুবাদ পাওয়ার মতো করেছেন? তারানা যদি মেয়েটার ওই পরিচয় প্রকাশ না করে চাকরি দিতে তাহলে সেটাকে মহৎ কাজ বলা যেত। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী নিজের মহত্ব প্রচার করতে গিয়ে পূর্ণিমাকে আবার বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। কর্মস্থলে ওই মেয়েটা যতোই ভালো কাজ করুক, সবাই তাকে ধর্ষিতা নারী হিসেবে করুণার চোখে কিংবা লোভাতুর দৃষ্টিতে।

 

 

আমি মনে করি, তথ্য প্রতিমন্ত্রী সস্তায় পূর্ণিমাকে পণ্য করে জনপ্রিয়তা পেতেই এই কাজটি করেছেন। মেয়েটাকে পারসোনাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তারানা হালিম যে অভিনন্দন পেয়েছেন, তার নাম ও ছবি প্রকাশ করে নিন্দা কুড়িয়েছেন কয়েকগুণ বেশি।

 

 

দেশের পত্র-পত্রিকা আর গণমাধ্যমে আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম ধর্ষিতার নাম-পরিচয় প্রকাশ করে না। যদিও অপরাধটা ধর্ষকের, কিন্তু বাংলাদেশে সামাজিকভাবে হেয় করা হয় কোনও অপরাধ না করা ধর্ষিতাকে। একসময় নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার ও পেশাদার আইনজীবী হয়ে তারানা কিভাবে একজন ধর্ষিতার নাম ও ছবি প্রকাশ করলেন?

 

 

‌১৭ বছর আগে পূর্ণিমা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, এটা তার পরিচয় হতে পারে না, তার যোগ্যতা করুণা পাওয়া নয়। পূর্ণিমা একজন অসাধারণ লড়াকু নারী। ২০০১ সালের সেই ভয়াল অভিজ্ঞতায় ভেঙে না পড়ে তিনি নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন।ঝড় এসে তাকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছে হয়তো, কিন্তু আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন তিনি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেলিকমিউনিকেশনে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তাই একজন প্রতিমন্ত্রীর পারসোনাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তার জন্য বাড়তি কোনও ফেভার নয়। বরং যোগ্যতার চেয়ে কম পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে তাকে।

 

 

ধর্ষিত হওয়াটাকেই তারানা হালিম ওই মেয়েটার যোগ্যতা হিসেবে তুলে নারী হয়ে নারীর অবমাননা করলেন প্রতিমন্ত্রী।

 

 

 

[মতামত একান্তই লেখকের নিজস্ব এজন্য সংবাদ২৪.নেট কর্তৃপক্ষ দায়ি নয়।]

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com