ads

অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি কি পারবেন?

আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা: দুই মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ওই পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবেন।

 

 

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করতে হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নতুন করে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি।

 

 

তাই দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা নবনিযুক্ত কোনো বিচারপতিকে শপথ পড়াতে পারবেন না বলে জানান ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের গত সময়ের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি অন্য বিচারপতিদের শপথ পড়াতে পারবেন না। কারণ সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করার পর প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়নি এবং এ পদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোনো বিচারপতি শপথও নেননি।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ৩১ জানুয়ারি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স পূর্ণ হবে।’

 

 

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘আইনমন্ত্রী সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে বলেছেন দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে সকল দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু এখন যিনি দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আছেন, তিনি তো বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেননি। এ জন্য, আমার মনে হয়, এ মুহুর্তে যিনি দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি অন্য বিচারপতিদের শপথ পড়াতে পারবেন না।’

 

 

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি অন্য বিচারপতিদের শপথ পড়াতে পারবেন না। কারণ তিনি নিজেই তো প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেননি।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে কর্মে প্রবীণ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু শপথ পড়াতে পারবেন না। কারণ প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন আর শপথ পড়ানো এক কথা নয়।’

 

 

তবে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি রাজধানীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি তাদের শপথ পড়াতে পারবেন।’

 

 

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি হবেন তিনিই, যিনি আপিল বিভাগে কর্মে প্রবীণতম।’ তিনি বলেন, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, দেশে প্রধান বিচারপতি না থাকলে প্রধান বিচারপতির অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি।’

 

 

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৯০ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ কেয়ারটেকার সরকারের চিফ অ্যাডভাইজার হয়েছিলেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। তখন একজন অ্যাক্টিং চিফ জাস্টিস ছিলেন। তিনি অ্যাপয়নমেন্টও দিয়েছেন। শপথও পড়িয়েছেন। এটা যে নজির নেই তা না। নজির আছে। অনুরূপ কথার ওপরে জোর দিতে হবে।’

 

 

আনিসুল হক বলেন, ‘যিনি এখন দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি, তিনি কিন্তু একটা শপথ নিয়েছেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে। অনুরূপ মানে হচ্ছে চিফ জাস্টিসের সকল ক্ষমতা তিনি পালন করতে পারবেন। সেখানে কিন্তু কোনো বিভাজন করে দেওয়া হয় নাই তিনি কী করতে পারবেন কী পারবেন না।’

 

 

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি অন্য বিচারপতিদের শপথ পড়াতে পারবেন। আমার মনে হয় সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে প্রধান বিচারপতি না থাকলে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি অনুরূপ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’

 

 

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, ক্ষেত্রমত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

 

 

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এককভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। এ ছাড়া ৯৫ অনুচ্ছেদের ১ দফায় বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারক নিয়োগ করা হবে।

 

 

স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৬ বছরের ইতিহাস অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি পদ এতদিন শূন্য রাখা হয়নি। এর আগে দু’বার প্রধান বিচারপতি নিয়োগে দেরি হলেও এত সময় পার হয়নি।

 

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয় পরের দিন। এরপর ১৪ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com