ads

পাকিস্তানি হামলা থেকে বাঁচতে ১৪ হাজার বাঙ্কার নির্মাণ করছে ভারত

বাঙ্কার

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মিরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ১৪ হাজার বাঙ্কার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলির হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই বাঙ্কার নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

 

সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ, জম্মু বিভাগে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানি গোলাগুলির মুখে পড়া স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা দিতে ১৪ হাজার বাঙ্কার নির্মাণ করা হবে।

 

 

কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ১৪ হাজার ৪৬০টি বাঙ্কার নির্মাণের জন্য ৪১৫.৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পুঞ্চ, রাজৌরি, জম্মু, কঠুয়া ও সাম্বা সীমান্ত এলাকায় ব্যক্তিগত ও কমিউনিটি বাঙ্কার নির্মাণ করা হবে।

 

 

ব্যক্তিগত বাঙ্কার ১৬০ বর্গফুটের হলেও কমিউনিটি বাঙ্কার নির্মাণ হবে ৮০০ বর্গফুট একালা জুড়ে। কমিউনিটি বাঙ্কারে একসঙ্গে ৪০ জন থাকতে পারলেও ব্যক্তিগত বাঙ্কারে মাত্র ৮ জন থাকতে পারবেন।

 

 

এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গত বছর পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে ১৯ নিরাপত্তা কর্মীসহ ৩৫ জন নিহত হন। এরমধ্যে ১২ জন বেসামরিক ব্যক্তি ও ৪ বিএসএফ জওয়ান রয়েছেন।

 

 

সীমান্তে বাঙ্কার নির্মাণের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির সিনিয়র নেতা ও জম্মু’র এমপি যুগল কিশোর শর্মা।

 

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২২১ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৭৪০ কিলোমিটার জম্মু-কাশ্মির সীমান্ত রয়েছে।

 
এসব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ও কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, “দু’দেশের জনগণ মৈত্রী চান। ভারত ও পাকিস্তানের জনগণের সমস্যা একই। ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব, পণপ্রথা, ধর্মান্ধতা, কর্মী ছাঁটাই, ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া ইত্যাদি। মূল সমস্যার চেহারাটা একই। সাধারণভাবে দেখা গেছে যে, পাকিস্তানের মধ্যে যারা গেছেন, তারা বলেছেন যে পাকিস্তানের মানুষ খুব অতিথিপরায়ণ। পাকিস্তান থেকে ভারতেও যারা এসেছেন তাদেরও সমাদরে আহ্বান করেছে ভারতীয় জনতা। সমঝোতা এক্সপ্রেস চালু করার সময় দু’দেশের জনগণের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মাঠে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়। এসব থেকে প্রমাণ হয় যে ভালোবাসা আছে।”

 

 

তিনি বলেন, “অস্ত্র বিপণন সংস্থাগুলো চায় যুদ্ধ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চায় যাতে এই দুই দেশের মধ্যে যাতে সম্পর্ক ভালো না থাকে, সেজন্য কাশ্মির ইস্যুকে জিইয়ে রাখা হয়েছে। ওই সমস্যা সমাধান করার কোনো চেষ্টা হয় নি। তাছাড়া কাশ্মির সমস্যার সমাধান হোক তা ভারতের শাসক শ্রেণিও চায় না, পাকিস্তানের শাসকরাও তা চান না। এটা হচ্ছে তাদের কাছে বিপুল মুনাফার বিষয়। একদিকে রাজনৈতিক মুনাফা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মুনাফা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে, এবং ভারত-পাক সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, যদি কাশ্মির সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কাশ্মিরের মানুষ কী চান তা আমাদের খেয়াল রাখা উচিত।”

 

 

ড. ইমানুল হক আরও বলেন, “ভারতীয় সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকে কাশ্মিরি মানুষদের প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে করে ন্যায্য দামে তারা খাবার পান, কারণ কাশ্মিরের অনেক মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করেন। কাশ্মিরের মানুষ বরফ পড়ার দিনগুলোতে তারা খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে থাকেন। সেখানকার পর্যটন শিল্প বিপন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে বিজপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তা আরো বেড়েছে। কাশ্মির শান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত করা হয়েছে, যাতে তাদের ভোট বাক্সের মুনাফা বাড়ে এবং অস্ত্র ব্যবসা থেকে অনেক বেশি কমিশন পান। সেজন্য তারা উত্তেজনাকর কথাবার্তা বলে বিষয়টি জিইয়ে রাখেন।’

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com