ads

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের নেপথ্যে আসলে কি

মন্ত্রিসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বছরে এসে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলো। শপথ নিলেন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী। অবশ্য একজন আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। মেয়াদের শেষ দিকে মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণ এবং সিলেকশনকে ভোটের রাজনীতি বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে মন্ত্রিপরিষদের কলেবর বাড়ানোতে প্রশাসনের কাজে তেমন উপকারে আসবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া যতটা না প্রশাসনিক প্রয়োজনে মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, তার চেয়ে রাজনৈতিক প্রয়োজনিয়তা আওয়ামী লীগের বেশী প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতারাই।

 

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কেরামত আলী শপথ নেন। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

 

 

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়ে চমক দেয়া হয়েছে। তবে নতুন যে মন্ত্রীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদেরকে মূলত নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের মনরক্ষার প্রয়োজনেই সামনে আনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ে সেটি প্রাধান্য দিয়েই নতুন মন্ত্রী পছন্দ করা হয়েছে।

 

 

এদিকে অপেক্ষাকৃত কম মুখচেনা তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আওয়ামী লীগের অনেক পুরনো নেতা হতাশায় ভুগছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

 

 

জানতে চাইলে সুশাসরে জন্য নাগরিক-সুজনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নতুন চারজন যুক্ত হওয়ায় একটি মেগা মন্ত্রিপরিষদ হয়েছে। আগে যারা ছিলেন তারাইতো ঠিকমতো কাজ করছেন না।’

 

 

তিনি বলেন, ৫৬ জন মন্ত্রী দিয়ে আগের নাগরিক সমস্যাগুলোর কোনটার সমাধান হয়েছে? সরকারে নতুন কোনো মন্ত্রী দরকার ছিল না। শুধুমাত্র দলীয় প্রয়োজনে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘হটসিটে বসার ক্ষেত্রে যোগ্যরাই সবসময় গুরুত্ব পেয়ে আসছেন সেই শুরু থেকেই। এটা নতুন কিছু না।’

 

 

তিনি বলেন, ‘শুধু চেয়ারে বসলেই হবে না, সক্ষমতাও প্রমাণ করতে হবে। দল এবং সরকার সবসময়ই অ্যাকটিভ এবং যোগ্য প্রার্থীদের নজরে রেখেছিল। কেউ যদি মনে করেন- আমি অনেক দিন ধরে দলের হয়ে কাজ করছি, এজন্য আমার মন্ত্রিত্ব পাওয়া উচিত সেটা ভুল। যারা মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়েই পেয়েছেন।’

 

 

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চেয়ার টিকিয়ে রাখার বিষয়টি যার যার নিজ কর্মদক্ষতার উপর নির্ভর করবে। আর এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অসন্তোষ কিংবা কোন্দল সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। নিজ নিজ জায়গা থেকে যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে ক্রমান্বয়ে সবাইকেই সুযোগ দেয়া হবে।

 

 

তিনি বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) অনেক বিচক্ষণ, তিনি সব জানেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণ করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন। এটা সবার স্বার্থে। কারো ব্যক্তি উদ্দেশ্য পূর্ণ করার স্থান বা সুযোগ আওয়ামী লীগে নেই।’

 

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, কে মন্ত্রী হলো কে হলো না সেটা বড় বিষয় না। এটা নিয়ে পড়ে থেকে লাভ নেই। সামনে নির্বাচন। দলকে জেতাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাজ করতে হবে, মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়।

 

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মন্ত্রী বানাতে রাজনীতি করে না, দেশের জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে। যারা মন্ত্রী হতে চান, তাদের নিজ নিজ সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। একজন হয়েছেন বলে এ বিষয় নিয়ে ক্ষোভ পোষণ করার কোনো কারণ নেই। চেয়ার পাওয়া এবং টিকিয়ে রাখা দুটোই অনেক কঠিন।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com