ads

কুবিতে আন্দোলন চলছে : প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা প্রতিনিধি, সংবাদ২৪.নেট: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৫ অক্টোবর থেকে টানা ৪০দিন ধরে আন্দোলন চলছেই, প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উপাচার্যের অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলী আশরাফ এক মাস ধরে দপ্তরে যেতে পারছেন না। এ অবস্থায় কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

 

 

যার কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক ৫৪ হাজার শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার কারণ হিসেবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্যকে এবং উপাচার্য পন্থি শিক্ষকদের দায়ী করেছেন। যার ফলে ইতিমধ্যে অর্নাস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে। যার ফলে প্রশাসনিকসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবতীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

 

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ জন্য তারা উপাচার্যের মেয়াদের শেষ দিন ২ ডিসেম্বরের জন্য অপেক্ষা করছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আলী আশরাফ ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের জন্য উপাচার্য নিযুক্ত হন। কিন্তু তার আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করে আসছে। উপাচার্যের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি এ প্রতিবেদককে সহ একাধিক সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়। উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতি লিখিত অভিযোগ করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের নির্দেশ দেয়।

 

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের বিরুদ্ধে গত ১৫ অক্টোবর থেকে টানা আন্দোলন শুরু করেন। ওই দিন সমিতি ১৪ দফা দাবিতে রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগের শর্ত ভেঙে উপাচার্যের নেওয়া বাড়তি ভাতাসহ বিভিন্ন খাত থেকে নেওয়া টাকা ফেরত, প্রক্টরের পদত্যাগ, নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধসহ নানা দাবী উল্লেখ করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৬ অক্টোবর শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের দপ্তরের মুল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

এ ঘটনার পর গত ১৫ অক্টোবর থেকে উপাচার্য তার দপ্তরে আসছেন না। যার ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল কাজকর্মে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, উপাচার্য অযথা সময়ক্ষেপণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও পিছিয়ে দিচ্ছেন। তিনি যত দ্রুত বিদায় নেবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ততই মঙ্গল। এ বিষয়ে উপাচার্যের ভাষ্য, সরকার তাঁকে নিয়োগ দিয়েছেন। সরকারই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

 

 

চলমান প্রেক্ষাপটে সরকার চাইলে মেয়াদের আগেই চলে যাবেন। বিভিন্ন কাজে স্থবিরতা ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ ও ১৮ নভেম্বর হওয়ার কথা ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ কারণে ভর্তি-ইচ্ছুক ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবু তাহের বলেন, মেয়াদের শেষ সময়ে উপাচার্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পাঁয়তারা করছিলেন। তাঁর অনুসারী কিছু লোক নিয়োগ বাণিজ্যের তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এসব নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতেই তাঁরা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিয়োগ বন্ধ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত চারটি ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৬ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে আছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতিও বন্ধ।

 

 

উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজকর্মে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। অফিস সময় সকাল ৯টায় শুরু হলেও কেউ কেউ আসছেন সকাল সাড়ে ১০টায়। আবার কেউ বেলা দুইটায় বাসে কুমিল্লা শহরে ফিরছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণের কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে উপাচার্যের দপ্তর বলছে, নতুন করে ৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করতে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। সেটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। উপাচার্য আলী আশরাফ বলেন, দপ্তরে তালা থাকায় তিনি সেখানে যেতে পারছেন না। তবে বাংলোতে বসে দাপ্তরিক কাজ করছেন।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীএ প্রতিবেদককে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছাত্রলীগের অপরাজনীতি। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখতে পারে। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে বলব, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীরা যেন জিম্মি না হয়। অনিয়ম-দুর্নীতি হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি আছে।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com