ads

জেবিবিএ’র সাধারণ সভা : দফায় দফায় চরম উত্তেজনা ॥ ইসি’র ৭ সদস্যের পদত্যাগের হুমকি

জেবিবিএ’র সাধারণ সভা

নিউইয়র্ক: দফায় দফায় চরম উত্তেজনা আর কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাপ্ত হলো জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) নিউইয়র্ক-এর সাধারণ সভা। অপরদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ইসি’র ৭ সদস্য পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন।

 

 

২১ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বেলাজিনো পার্টি হলে জেবিবিএ’র সভা আয়োজিত হয়। কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত সন্ধ্যা ৭টার সভা রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হলেও মধ্য রাত ১২টায় কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাটি শেষ হয়। সভা চলাকালীন সময় বিগত দুই বছরের আয়-ব্যয় নিয়ে অস্বচ্ছতা সহ তলবী সভা, নির্বাচন কমিশন গঠন আর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে দফায় দফায় ব্যাপক হৈচৈ আর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভায় উপদেষ্টাবৃন্দ সহ সাধারণ সদস্যদের দাবী-দাওয়া আর মতামতও উপেক্ষিত হয়।

 

 

জেবিবিএ’র সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম কাজী কাইয়্যুম। এছাড়াও সভায় জেবিবিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অসুস্থ সাঈদ রহমান মান্নানের সুস্থ্যতা ও জ্যাকসন হাইটসের রাহমানিয়া ট্রাভেল সার্ভিস ইনক-এর প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও মোহাম্মদ রহমানের পিতা আলহাজ্ব মাওলানা শফিকুর রহমানের ইন্তেকালে মরহুমের বিদেহী আতœার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

 

 

সভায় জেবিবিএ’র উপদেষ্টা পরিষদরে সদস্য সাঈদ রহমান মান্নান, মহসীন ননী, পিয়ার মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ রহমান সহ বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে সভা মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন জেবিবিএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ নেওয়াজ, সহ সভাপতি মোল্লা এম এ মাসুদ ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম হারুন।

 

 

সভায় সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ্যের রিপোর্ট পেশ করেন যথাক্রমে তারেক হাসান খান ও মোহাম্মদ সেলিম হারুন। এই রিপোর্ট পেশের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি মোল্লা এম এ মাসুদ। এরপর প্রথমেই আলোচনায় অংশ নেন শাহ শহীদুল হক। তিনি তার বক্তব্যে জেবিবিএ আয়োজিত পথমেলার আয়-ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারপর আয়-ব্যয়ে অস্বচ্ছতা সহ জেবিবিএ’র ফান্ড যেখানে শূন্য, সেখানে সংগঠনের দায়ভার কে নেবে বলে প্রশ্ন তোলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার ডাকাতি হওয়ার পরও জেবিবিএ’র কোন কর্মকর্তা তার খোঁজ নেননি এমন অভিযোগ করে এডভোকেট শামসুদ্দোহা প্রশ্ন তোলেন সদস্যর বিপদে-আপদে কাজে না আসলে, তাহলে জেবিবিএ’র দরকার কি?

 

 

জেবিবিএ-কে প্রবাসে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ‘এফবিসিসিআই’ উল্লেখ করে এম. সুরুজ্জামান সংগঠনের আয়-ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইসি কমিটি’র অনুমোদন ছাড়াই আয়-ব্যয় সাধারণ সভায় তুলে ধরা সহ জেবিবিএ’র সদস্য মরহুম হুময়ুন পরিবারের জন্য সংগৃহীত অর্থ কোথায় তার জবাব চান জাহাঙ্গীর আলম। জেবিবিএ’র সাবেক কর্মকর্তা হারুণ ভূইয়া জেবিবিএ’র সদস্যদের হেয় করে কথা বলার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, সাধারণ সম্পাদকের কথায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি, ব্যথিত হয়েছি। জেবিবিএ-তে ছোট-বড় বলে কোন সদস্য নেই। এখানে সবার সমান অধিকার। যিনি এক ডলারের মালিক আর যিনি মিলিয়ন ডলারের মালিক, যিনি গ্রোসারী বা রেষ্টুরেন্টের মালিক আর যিনি ট্যাক্স ফাইলিং কোম্পানীর মালিক সবারই সমান অধিকার। তিনি সদস্য ফি ১০০ ডলার করার বিরোধিতা করেন এবং নির্বাচনের জন্য তিন মাস সময় কোথায় সেই প্রশ্ন তোলেন।

 

 

উল্লেখিত বিষয়ে ও প্রশ্নে প্রায় অভিন্ন কথা বলেন, দিদারুল ইসলাম দিদার, আব্দুল নূর বড় ভূইয়া, রুহুল আমীন সরকার, মাহবুবুর রহমান টুকু, মোহাম্মদ রিজু প্রমুখ সদস্য। মাঝে ডা. রেজাউল করীম তার বক্তব্যে সুন্দর ও শান্তিপূর্ন পরিবশ বজায় রেখে মার্জিত ভাষায় কথা বলে সভা শেষ করা জন্য সকল সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

 

সদস্যদের বক্তব্যের মাঝে-মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নৈশ ভোজ পরিবেশন নিয়ে প্রথম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় সভায় উপস্থিত কেউ কেউ খাবার নিতে গেলে জেবিবিএ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান সভা শেষ করে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিলে বাধা দেন সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান। তিনি বলেন, সভার কাজও চলওেৎব, খাওয়াও চলবে। যার ইচ্ছে এখন খেতে পারেন। বলেন, সাধারণ সম্পাদক সভা পরিচালনা করছেন, যুগ্ম সম্পাদক নন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান যুগ্ম সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান সহ তার কয়েকজন সমর্থক। ফলে সভায় দেখা দেয় উত্তেজনা। অবশ্য পরবর্তীতে ফাহাদ সোলায়মান মঞ্চে গিয়ে তারেক হাসান খানের সাথে হাত মিলিয়ে উদ্ধুত পরিস্থিতির সুন্দর সমাধান ঘটান।

 

 

পরবর্তীতে বিশেষ করে ইসি কমিটি’র সংখ্যাগরিষ্ট ৮ সদস্যের স্বাক্ষরে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এবং ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত ‘তলবী সাধারণ সভা’ অবৈধ বলে সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান উল্লেখ করলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান দিদারুল ইসলাম দিদার। দিদার প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশন গঠনের রেজুলেশনে যাদের স্বাক্ষর রয়েছে তারা এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত নন। ফলে তিনি প্রমাণ চান যে কারা কারা স্বাক্ষর করেছেন। দিদারুল ইসলাম দিদারের বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদকের দাবীর বিরোধীতা করেন ইসি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও কামরুজ্জামান বাচ্চু। তারা বলেন, আমরা ইসি কমিটির সভার উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করেছি, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করিনি। এসময় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই বাদ-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। ফলে সভাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ মারমুখী হয়ে উঠেন। সভায় উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন।

 

 

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পিয়ার মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং তলবী সভাকে ‘অবৈধ’ বলা হয়নি বলে উল্লেখ করেন এবং সাধারণ সভা সভা হচ্ছে সর্বোচ্চ ফোরাম। তাই এই সভাতেই নির্বাচন কমিশন গঠন, পুন:গঠন বা রদবদল করা যেতে পারে বলে মতামত দেন। উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সদস্যরা সাধারণ সভাতেই নির্বাচন কমিশণ গঠন করার দাবী জানালে সভাপতি জিকো উপদেষ্টাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বললে সভায় পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়। শুরু হয় আবার বাক-বিতন্ডা আর মারমুখী পরিবেশ। কেউ কেউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজও করতে থাকেন। এরই মাঝে নিরাপত্তা কর্মীরা বেষ্টনী সৃষ্টি করে দুই পক্ষকে দূরত্ত্বে রাখার চেষ্টা করেন। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেন যে রাত ১২টা পর্যন্ত আমাদের সময় এই সময়ের মধ্যে সভা শেষ করতে হবে, না পারলে হল ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়া সভায় উপস্থিত অনেক সদস্য চলে যাওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদের মতামত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না বললে উপস্থিত সদস্যরা তার বিরোধীতা করেন এবং প্রয়োজনে এক ঘন্টা সময় বাড়িয়ে সাধারণ সভাতেই সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবী জানান। এই পরিস্থিতির মধ্যে একাধিকবার সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ আর লাইট কিছুটা অন-অফের ঘটনা ঘটে এবং পর্যায়ে রাত ১২টা বেজে গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা একে একে সবাইকে হল থেকে বের করে দিতে সাহায্য করেন। ফলে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই জেবিবিএ’র সাধারন সভা শেষ হয়ে যায়।

 

 

পরবর্তীতে জেবিবিএ’র কার্যকরী পরিষদের ৭জন কর্মকর্তা রাত একটার দিকে খাবার বাড়ীর চাইনিজ রেষ্টেুরেন্টে জরুরী সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত জেবিবিএ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম হারুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন বাদশা এবং কার্যকরী সদস্য মোশাররফ হোসেন, কামরুজ্জামান বাচ্চু উপস্থিত থেকে সাধারণ সভার ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য জেবিবিএ’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে দায়ী করে বলেন, সাধারণ সভায় জেবিবিএ’র উপদেষ্টা ও সদস্যদের অপমান করা হয়েছে। সদস্যদের দাবীর পরও সাধারণ সভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই শেষ এবং উদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের অপমানের জন্য তারা জেবিবিএ’র সদস্যদের কাছে আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করেন। পরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের পক্ষে মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা সাধারণ সভার ব্যাপারে উপদেষ্টাদের দারস্ত হবো এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ভুত পরিস্থির সুষ্ঠু ও সম্মানজনক সমাধান না হলে প্রয়োজনে আমরা জেবিবিএ’র ইসি কমিটি থেকে পদত্যাগ করবো। খবর ইউএনএ’র

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com