ads

শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসাবেই বেঁচে থাকতে চাই

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট

সাক্ষাতকারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা: বিশ্ব চরাচরের সবই পরিবর্তনশীলতার চক্রে নতুনের পদধ্বনিতে মুখরিত। হয়তো এ জন্যই মানুষের চাহিদা অন্তহীন। একটি প্রাপ্তি তাকে তৃপ্ত করে না, তৃষ্ণার্ত করে পরবর্তীটি পাবার।

 

 

আশাভঙ্গের বেদনায় হতাশার শেষসীমায় দাঁড়িয়েও আবার সে আশায় বুকবাঁধে। মানুষ মূলত আনন্দ লাভের মাধ্যমে বেদনা পরিহার করতে চায়। আনন্দের পরিমাপ বর্ধনের জন্য মানুষের জীবনের সর্ববিধ বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রকের ভুমিকায় থাকে রাষ্ট্র। আর রাষ্ট্র অর্জন ও পরিচালনার কার্যত কান্ডারী হচ্ছে রাজনীতি। সুখের পরিমাণতগত দিক অপেক্ষা গুণগত দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দার্শনিকরা।

 

 

সকল সুখের চরিত্র আবার এক নয়, যেমন কেউ নিজের আখের গোছাতে আনন্দ পায়, দুর্নীতি করে আনন্দ পায়, আবার কেউ বৈধপন্থায় অর্থ উপার্জন করে অন্যের কল্যাণে নিজের আনন্দ খোঁজে। এসব মানুষ মনে করে শুকর হয়ে আনন্দ লাভের চেয়ে মানুষ হয়ে নিরানন্দ লাভই উত্তম।

 

 

যদিও এমন মানুষের দেখা মেলাভার। রাজনীতিতে এমন মানুষের আকালের ভেতরেও উদীয়মান টগবগে দুরন্তপনা এক যুব নেতার সঙ্গে গতকালের আড্ডাটা বেশ জমেই উঠছিল। এ যুব নেতাটি আর কেউ নন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। চিন্তার ধারাবাহিকতায় অগ্রসরমান যুবনেতা সম্রাটের রাজনৈতিক পরিসরের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি রাজধানী ছাপিয়ে সারাদেশেই সুদৃঢ় ভিত্তি গড়েছে। তাঁর উত্থান তীল তীল করে রাজপথের অকুতোভয়া কর্মী হিসাবে। কিন্তু নেতৃত্বের সারিতে অবতীর্ণ হবার পর তার কর্মযজ্ঞ রূপকথার গল্পের ন্যায়। যেখান থেকে তার হাঁটি হাঁটি পথচলা সেই কাকরাইল হয়ে উঠেছে রাজনীতির পাঠশালা। যে পাঠশালায় প্রতিনিয়ত নামে নেতাকর্মীদের ঢল। কাকরাইলস্থ সার্কিট হাউজ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সরে গেলেও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের আঙ্গিনায় গড়ে উঠেছে আওয়ামী পরিবারের এক মিলনঘর। জনগণনন্দিত এক নেতায় পরিণত হলেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন শেখ হাসিনার এক ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে।

 

 

চলনে-বলনে, দায়িত্ব-কর্তব্যে, ন্যায়-নিষ্ঠায়, নির্ভীকতা-সততায়, আস্থায়-বিশ্বাসে সর্বোপরি পরিচয়ে ফুটে ওঠে তার অনিন্দ্য সুন্দর অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব। কর্মীবান্ধব সম্রাট কর্মীকূলের মাঝে প্রাণবন্ত উজ্জ্বল উদার ব্যক্তিসত্তার পরিচয়বাহী এক যুবনেতা। গুণমুগ্ধ সম্রাট চৌধুরী বক্তৃতার মঞ্চেও অনলবর্ষী বক্তা। উদ্যমী এ নেতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষে নির্ভেজাল এক সুবিশাল কর্মী বাহিনী। অতীতের সব আন্দোলন সংগ্রামের ত্যাগী কর্মীদের জন্য কাকরাইলস্থ সম্রাট চৌধুরীর কার্যালয় হয়ে উঠেছে আশ্রয় ঠিকানা। মাঠের নিবেদিত কর্মীদের খাওয়া-দাওয়া বন্দোবস্ত সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। নিয়মিত রান্নার জন্য রয়েছে বেশ ক’জন বাবুর্চি।

 

 

সুবিশাল একটি পাঠাগারও রয়েছে তরুণদের আদর্শ কর্মী হিসাবে গড়ে তুলতে। মুজিবঅন্তপ্রাণ সম্রাট চৌধুরী শেখ হাসিনার অকুতোভয় এক কর্মী হিসাবে গোটা আওয়ামী পরিবারে ঈর্ষনীয় সংগঠক হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফেইসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে চোখ পড়লে আঁচ করা যায় গুণতিতে সম্রাট চৌধুরীর ভক্তানুসারীর সংখ্যাটা কত। কর্মী-ভক্তরা প্রিয় নেতাকে মতিঝিল থেকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাইছে। কিন্তু প্রার্থিতার ব্যাপারে সম্রাট চৌধুরী যা বললেন তাও সারাদেশে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের জন্য শিক্ষনীয় প্রেরণা। বললেন, আমিও দেখছি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ফেনী-১ এবং ঢাকা-৮ আসনে আমাকে প্রার্থী রূপে দেখতে চাচ্ছে। সম্রাট বলেন, একটি নির্বাচনী এলাকা বড় কথা নয়, সারাদেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীর দোয়াই আমার কাছে বড়। আমার বক্তব্য পরিস্কার।

 

 

আমি যতদিন বেঁচে আছি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে লাখ কোটি কর্মীর ভিড়েই আমৃত্যু কর্মী শব্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কর্মীদের ভালবাসায় আমি অনুরক্ত, অভিভূত। কিন্তু একটা জিনিষ আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমরা সবাই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কর্মী। সর্বপরিসরে তাঁর সার্বভৌম কর্তৃত্ব রয়েেেছা বলেই আমরা টিকে আছি। সম্রাটের ভাষায় একজন এমপি বা মন্ত্রীর চেয়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রকৃত কর্মীর মূল্য অনেক বেশী। কাকরাইলস্থ সম্রাট চৌধুরীর কার্যালয়ে গিয়ে মনে হলো আওয়ামী লীগেরই এক ‘আপন ভুবন।’ জানা গেলো, দলের প্রত্যেকটি কর্মসূচীতে সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকে ব্যতিক্রমী সব আয়োজন।

 

 

ত্রিশজন স্টাফ নেতাকর্মীদের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের নিবেদিত প্রাণ যেসব কর্মী তাদের ঠিকানা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। আর আমার সব কর্মযজ্ঞের অনুপ্রেরণার নেপথ্যে আমার প্রাণপ্রিয় নেতা আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। আমার সব চেয়ে বড় পাওয়া আমি পেয়েছি। ফেনীতে যুবলীগের অনুষ্ঠানে আমার হার্ট এ্যাটাক হলে আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এয়ার এম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার রোগমুক্তি কামনা করে লাখ লাখ কর্মী-নেতা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন।

 

 

দোয়া মিলাদ পড়িয়েছেন। আমি যদি শেখ হাসিনার কর্মী না হতাম তাহলে লাখ লাখ মানুষের এভাবে দোয়া ভালবাসা পেতাম না। আমার স্বপ্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্ট ক্ষমতায় থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, শেখ হাসিনা বিহীন রাজনীতি আমি এক সেকেন্ডের জন্য করবো না। আওয়ামী লীগ চলছে কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, আমার দায়িত্ব ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক গন্ডিবদ্ধ। ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০টির সম্মেলন হয়ে গেছে। সব চেয়ে আশার কথা হলো তৃর্ণমূলের এ প্রত্যেকটি ওয়ার্ড সম্মেলনে কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি। এতে করে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। সংগঠনের গতিও সঞ্চার করেছে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, এত বড় বড় অর্জনের মূল্যায়ণ হলে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনেও ক্ষমতা লাভ করবে।

 

 

রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে একটা জিনিষ আজ পরিস্কার – আজ সারা বিশ্বে মানবতার প্রধান কে? প্রশ্ন হলে একবাক্যে সবাইকে বলতে হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে নবীন নেতা হিসাবে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ভাবনা কি জানতে চাওয়া হলে বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর পরই রাষ্টৃরনায়ক শেখ হাসিনার নোবেল জয়ের কথা। কিন্তু হিলারী ক্লিনটনের যোগসাজশে নোবেল প্রাইজ লাভ করেন ড. ইউনুস। আজ শেখ হাসিনা বিশ্ব মানবতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। নোবেল প্রাইজের অপেক্ষা তা কম কিসের?

 

 

সম্রাট বলেন, চিন্তার ধারাবাহিকতায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের সেতু পেরিয়ে মানুষ পদার্পণ করেছে আধুনিক যুগে। অবশ্য মানুষ ধর্মীয় আধ্যাত্মিক চিন্তা চেতনা পরিত্যাগ করে ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টির প্রকাশ করলেও আমাদের ন্যায় অনেক জনপদেই তা এখনো স্পর্শ করেনি। রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী বার্মিজদের নিষ্ঠুর হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

 

 

মানবিকতার ধারা মধ্যযুগকে তিরোহিত করে আধুনিক যুগের সুচনা করলেও এর পরিপূর্ণ প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে মানুষকে ইচ্ছা অনিচ্ছার হাতিয়ার বানানো হয়েছিল। কথিত বাংলাদেশী সভ্যতার উদ্বাম তরঙ্গে দুঃশ্চিন্তার আবর্তেই যেন বাঙালিদের বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এদেশে আড়ম্বর থাকলেও ছিলনা আরম্ভ। শেখ হাসিনা সত্যিকার অর্থে সেই আরম্ভটা করেছেন। যে কারণে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বে মডেল হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com