ads

বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দিচ্ছে ভারত

ভারতের এক্সিম ব্যাংক

এক্সিম ব্যাংকের কঠোর শর্ত ও অর্থছাড়ে বিলম্ব

 

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : ভারত বাংলাদেশকে নতুন করে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে। এর বাইরে ৫শ কোটি টাকা দেবে অনুদান। এই অনুদান ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি আজ ৩রা অক্টোবর ঢাকা আসছেন।

 

 

জানা যায়, এলওসির আওতায় বাংলাদেশকে এই অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় এলওসির অধীনে ভারত বাংলাদেশকে ৩শ’ কোটি ডলার দিয়েছে। প্রথম এলওসিতে ভারত বাংলাদেশকে ১শ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়। এই অর্থ সাত বছরেও পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প নেয়া হয় পনেরটি। তিনটি প্রকল্প এখনও অর্ধেকও শেষ হয়নি। বারটি প্রকল্পের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এর কারণ প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ে ভারতের দাতা সংস্থার এক্সিম ব্যাংকের দীর্ঘ সময় ক্ষেপন ও শর্তের বেড়াজাল।

 

 

সাত বছরে এক্সিম ব্যাংক মাত্র ৩৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে। অথচ এই সময়ে পুরো ১শ কোটি ডলারই ছাড় করার কথা ছিল। বাংলাদেশ থেকে অব্যাহতভাবে অনুরোধও জানান হয়। কিন্তু শর্ত পূরণ হয়নি অজুহাতে বার বার প্রকল্প সংশোধন করতে হয়। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থে বারটি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছে এক্সিম ব্যাংকের অর্থে তা সমন্বয় করা হবে।

 

 

চলতি বছরই ভারতের সাথে দ্বিতীয় এলওসি চুক্তি করা ২শ কোটি ডলারের। এর আওতায় বাংলাদেশ চৌদ্দটি প্রকল্প নিয়েছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংক এগারটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। অর্থ ছাড় করেনি এখনও। কবে নাগাদ ছাড় করবে নিশ্চিত করেনি। অপর তিনটি প্রকল্প অনুমোদনে সময় ক্ষেপণ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় দ্বিতীয় এলওসির আওতায় নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নও দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ হবে। প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ে এক্সিম ব্যাংকের অনাকাক্সিক্ষত শর্তারোপ এবং দীর্ঘ সময় ক্ষেপন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত করে তুলছে। যার ফলে বাংলাদেশও ভারতের জনগণ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

 

প্রথম ও দ্বিতীয় এলওসির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক ধীর গতির পরও ভারত বাংলাদেশকে বিশাল অঙ্কের তৃতীয় এলওসি দিতে যাচ্ছে। ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি এই এলওসি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তবে তার চেয়ে অধিকতর স্বার্থ হাসিল হবে ভারতের। কারণ প্রকল্পগুলোর অধিকাংশই ভারতের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

 

 

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার টারমিনাল নির্মাণ, পায়রা সমুদ্র বন্দর টারমিনাল নির্মাণ, ফরিদপুরের ভাঙা হতে বেনাপোল পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, মিরেশ্বরাইয়ের বরাইয়ার হাট থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, মিরেশ্বরাইয়ে ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সরাইল পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণ।

 

 

এ প্রকল্পগুলোর সবই ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক। পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক দ্রুত চলাচলের সুবিধা হবে এতে। অবশ্য এতে বাংলাদেশেরও আর্থিক ফায়দা হবে। পদ্মা সেতু আগামী বছরের ডিসেম্বরে চালু হওয়ার পর এই সেতু দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল শুর হবে। জাইকার স্টাডি অনুযায়ী পদ্মা সেতু চালু হওয়ার প্রথম বছরেই এই সেতুর উপর দিয়ে দৈনিক পনের হাজার ভারতীয় পণ্যবাহী যান চলাচল করবে।

 

 

দু’বছরের মধ্য এই সংখ্যা পঁচিশ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত পণ্য পরিবহনের জন্যই ভারত এলওসির আওতায় বাংলাদেশকে বিশাল অংঙ্কের ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। চীনের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমানোও তাদের উদ্দেশ্য বলে অনেকে মনে করছেন।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com