ads

ধর্ষণের কথা স্বীকার ইভানের : তার কাছে আরও ধর্ষণের ভিডিও রয়েছে : র‌্যাব

ইভান

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : বনানীতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসায় নিয়ে এক অভিনেত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন গ্রেফতার বাহাউদ্দিন ইভান।

 

 

এছাড়া তার (ইভান) কাছে ধর্ষণের আরও একাধিক ভিডিও রয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি। ওই সব ভিডিও ক্লিপ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

 

 

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

 

 

মুফতি মাহমুদ বলেন, ইভানকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে র‍্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি। এখন তাকে বনানী থানায় হস্তান্তর করা হবে।

 

 

 

তিনি জানান, ২০০৫ সাল থেকেই ইভান মাদকাসক্ত। এর আগে দুইবার তার পরিবার তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে আবারও তিনি মাদকে ঝুঁকে পড়েন।

 

 
মাদক সেবনের পাশাপাশি তিনি নারী সংক্রান্ত অপকর্মেও জড়িয়ে পড়েন। এ কারণে ২০০৮ সালে অল্প বয়সেই তার পরিবার তাকে বিয়ে করিয়ে দেন। তার ৫ ও ২ বছর বয়সী দু’টি সন্তান রয়েছে।

 

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় খালার বাড়ি থেকে পরিবারের সদসস্য বিশেষ করে তার বাবার সহযোগিতায় র‍্যাব-১১ এর একটি দল ইভানকে গ্রেফতার করে।

 

 

 

এ বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, এ ধরণের অপরাধীদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তবে, এক্ষেত্রে ইভানের পরিবার বিশেষ করে তার বাবা র‌্যাবকে অনেক সহযোগিতা করায় তাকে গ্রেফতার করা সহজ হয়েছে।

 

 

 

ধর্ষণের শিকার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের শিল্পী বুধবার দুপুরে বনানী থানায় মামলা করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনের কথা বলে ওই তরুণীকে নিজ বাসায় ডেকে নেয় ইভান। ওইদিন রাত ১টার দিকে বনানী ২ নম্বর রোডের ন্যাম ভিলেজের ৫/১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে ওই তরুণী উল্লেখ করেন।

 

 

 

ঘটনার পর পরই তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দিয়ে পালিয়ে যায় ইভান। ইভানের বাবার নাম বোরহান উদ্দিন বেলাল। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর মতলব উত্তরের মোহনপুর গ্রামে। তরুণীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। থাকেন ক্যান্টনমেন্ট ডিওএইচএসে। ওই তরুণী আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করলেও ইভান পড়েছে নবম শ্রেণী পর্যন্ত।

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বলেন, নিজের স্ত্রী-সন্তানের কথা গোপন করে ওই তরুণীকে এর আগেও ধর্ষণ করেছে কোটিপতির সন্তান বাহাউদ্দিন ইভান। ১১ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে ইভানের পরিচয় হয়। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর থেকেই বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে (অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মেয়ে) ধর্ষণ করে ইভান।

 

 

 

র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ইভানের এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৮ বছর বয়সী ইভান নিয়মিত মাদকসেবী। ইভানের নেতৃত্বে ধর্ষকদের একটি গ্রুপ রয়েছে।

 

 

 

এদিকে ধর্ষণ মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।

 

 

 

গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাব-১১ এর এএসপি শাকিল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার পর ইভান নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার মাজদাইর এলাকায় অবস্থিত তার খালা শান্তার বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে তথ্য পেয়ে সেই বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।

 

 

 

শাকিল আহমেদ আরও বলেন, ইভান জানিয়েছে, তার নেতৃত্বে রাজধানীতে একটি ধর্ষক গ্রুপ গড়ে তোলা হয়েছে। যাদের কাজই হল ফেসবুকে সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে পরে তাদের সর্বস্ব লুটে নেয়া। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বনানী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে।

 

 

 

এজাহারে যা আছে : মামলার এজাহারে ওই তরুণী উল্লেখ করেছেন, ‘১১ মাস আগে ইভানের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে আমার পরিচয় হয়। চার মাস আগে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাত ৯টায় ইভান আমাকে ফোন করে বলে, আজ আমার জন্মদিন। তুমি আমার বাসায় এসো। বাসায় এলে তোমাকে মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব। আমাদের সম্পর্কের বিষয়টিও মাকে জানাব। মা পরিচয় দিয়ে একজন মহিলার সঙ্গে আমাকে কথাও বলিয়ে দেয়। তাই ওই মহিলাকে ইভানের মা বলেই মনে করি। এরপর আমি আমার আপুর (সিমু) সঙ্গে কথা বলে রিকশায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বাসার সামনে আসি। সে আমাকে রিসিভ করে বাসার ভেতরে নিয়ে যায়। বাসায় যাওয়ার পর কাউকে দেখতে পাইনি। সে আমাকে তার ঘরে নিয়ে যায়। তার মা-বাবার কথা জিজ্ঞাস করলে ইভান জানায়, তারা অসুস্থ। ঘুমিয়ে পড়েছেন। উচু স্বরে কথা বললে তাদের ঘুমের ডিস্টার্ব হবে। সকালে তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব। বাসায় জন্মদিনের কোনো আলমত দেখতে না পেয়ে আমি ভয় পাই। বাসা থেকে চলে আসতে চাইলেও সে আসতে দেয়নি। সে আমাকে রাতের খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ায়। আমি নিষেধ করলে সে জানায়, একদিন খেলে কিছু হবে না।’

 

 

 

এজাহারে ওই তরুণী বলেন, ‘রাত দেড়টার দিকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে ধর্ষণ করে। আমি চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমার ব্যাগ রেখে বাসা থেকে আমাকে বের করে দেয়। ব্যাগে আমার তিনটি ড্রেস, দুইটি জিন্স, একটি কুর্তা, তিনটি মোবাইল ফোন, চার্জার, সিমকার্ড, মেমোরি কার্ড এবং ১৫ হাজার টাকা ছিল। আমাকে বের করে দেয়ার পর পথচারীদের সহযোগিতায় থানায় আসি।’

 

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ইভান আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এর আগেও ধর্ষণ করেছে। সে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাত। আমি মুখ খুললে খারাপ ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিত।’

 

 

আশপাশের লোকজনের বক্তব্য : বৃহস্পতিবার দুপুরে ন্যাম ভিলেজের ওই বাড়িতে দেখা যায়, বাড়ির মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ভবনের বাসিন্দা ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। দারোয়ান মাসুদ যুগান্তরকে জানান- ইভান, তার মা-বাবা, এক ভাই, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান প্রায় ৭ মাস ধরে এ বাসায় ভাড়া থাকেন। ইভানের বাবা বোরহান উদ্দিন বেলাল কাপড় ব্যবসায়ী। ইভান সেই কাপড়ের দোকান দেখাশোনা করে। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইভান সবার বড়। মেঝো ভাই অভিন উত্তরায় একটি কলেজে পড়ে। সে সেখানেই থাকে। ছোট ভাইন রবিন বনানীর একটি স্কুলে পড়ে।

 

 

 

ঘটনাস্থলের পাশের ফ্ল্যাট মালিকের গাড়িচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, ইভানের স্বভাব-চরিত্র খুব একটা ভালো না। মদ, গাঁজা থেকে শুরু করে সবই খায় সে। তিনি বলেন, ওই রাতে কী হয়েছে বলতে পারব না। তবে সকাল ৭টার দিকে একটি মেয়ে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য এ বাড়িতে আসে। তারা ইভানদের বাসায় প্রবেশ করে। ওই সময় কোত্থেকে যেন ইভানের বাবা বাসায় আসেন। পরে ইভানের বাবাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

 

 

 

ওই ভবন ও আশপাশের লোকজন জানান, ন্যাম ভবনের ঠিক পাশেই বোরহান উদ্দিন বিল্লালের ২০ শতাংশ জমি আছে। সেখানে অনেকগুলো টিনশেড ঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছে। একটি ঘর সব সময় ফাঁকা থাকে। সেখানে মাঝে মধ্যে মদ-গাঁজার আসর বসায় ইভান। তাছাড়া সেখানে মাঝে মধ্যে সুন্দরী তরুণীরা আনাগোনা করে বলেও তারা জানান।

 

 

 

সরেজমিন জানা যায়, সেখানকার ছয়টি রুম কোকাকোলার ডিস্ট্রিবিউটর এসআর মার্সেন্ডাইজারের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। অন্য রুমগুলো ১৫টি পরিবারের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। ভাড়াটিয়ারা বলেন, ‘ইভানরা হল বাড়িওয়ালা। কখন কাকে নিয়ে আসছে বা মাঝে মধ্যে এসে রুমের ভেতর কী করছে তার খবর আমরা নিতে যাই না।’

 

 

 

ম্যানেজারের বক্তব্য : ন্যাম ভিলেজের ওই ভবনের ম্যানেজার শওকত আকবর যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার জানামতে, মেয়েটি রাত ১২টার দিকে ওই বাসায় প্রবেশ করে। দায়িত্বরত দারোয়ান মাসুদের সামনে দিয়ে ইভান নিজেই ওই মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। মাসুদ মেয়েটির পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে ইভান জানায়, তিনি তার গেস্ট। রাত ৩টার দিকে দারোয়ান মাসুদ আমাকে ফোনে জানায়, একজন নারীকে ইভান বাসার বাইরে বের করে দিতে বলছে। কিন্তু তিনি বের হচ্ছেন না। পরে আমি (ম্যানেজার) গেটের কাছে এসে বলি, আপনি (তরুণী) ভেতর থেকে বের হয়ে যান। যদি কোনো কাজ থাকে তাহলে দিনের বেলায় আসুন। এরই মধ্যে ইভান ইন্টারকমে ফোন করে আমাকে জানায়, দ্রুত ওই নারীকে বের করে দিতে। ওই নারী বের না হলে একপর্যায়ে ইভান নিজেই নিচে নেমে এসে তাকে জোর করে বাসার বাইরে বের করে দেয়। সকালে দেখি বাসায় পুলিশ। বুধবার রাতে বাসায় র‌্যাব এবং ডিবির লোকজন এসেছিল।’

 

 

 

ম্যানেজার আরও জানান, মেয়েটিকে যখন বের হয়ে যেতে বলা হচ্ছিল তখন তিনি তার মা, বাবা এবং বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।

 

 

 

কাজের লোকদের বক্তব্য : ভবন ম্যানেজার শওকত আকবরের সহযোগিতায় দ্বিতীয় তলায় উঠে দেখা যায়, ইভানের ওই ফ্ল্যাটে তালা ঝুলছে। দরজা নক করলে ভেতর থেকে একাধিক নারীর কণ্ঠ ভেসে আসে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা সবাই (তিনজন) এ বাসার কাজের লোক।’ তাদের নাম আয়েশা (৪০), আছমা (১২) এবং মৌসুমী (১৫)। বাসার ভেতর থেকেই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার কথা জানতে চাইলে ভেতর থেকে আসমা বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকালে বাসায় ফিরে ইভান আর বের হয়নি। ইভানের মা ইতি ডায়াবেটিসের রোগী। ওষুধ খেয়ে রাত ১০টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। তার বাবাও আগেভাগেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ইভানের ভাত খাওয়া শেষ হলে আমরাও ঘুমাতে যাই। এরপর রাতে কী হয়েছে বলতে পারব না। সকাল ৭টার দিকে বাসায় পুলিশ এলে ঘটনা শুনি।’

 

 

 

গৃহপরিচারিকা আয়েশা জানান, চার রুমবিশিষ্ট বাসা এটি। এর মধ্যে তিনটি বেডরুম। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ইভান তার স্ত্রী টুম্পা ও সন্তানদের নিয়ে এক রুমে থাকেন। ইভানের ভাই রবিন ও তার বাবা বেলাল এক রুমে থাকেন। তার মা ইতি আমাদের নিয়ে অপর রুমে থাকেন। গৃহপরিচারিকা মৌসুমী জানান, ঈদের পরদিন ইভানের স্ত্রী তার ছেলে আব্রান ও মেয়ে অলিভিয়াকে (৩) নিয়ে পুরান ঢাকায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘটনা শোনার পর বাচ্চাদের সেখানে রেখেই বুধবার সকাল ৯টার দিকে টুম্পা তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে তারা চলে যান। তারা জানান, সকালের দিকে বেলাল, ইতি এবং রবিন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় তারা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে যায়।

 

 

মেডিকেল বোর্ড গঠন : বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ভিকটিমের চিকিৎসা ও আলামত পরীক্ষায় ৫ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি নিজে এ টিমের প্রধান। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- ডা. প্রদীপ বিশ্বাস, ডা. কবির সোহেল, ডা. রেজওয়ানা শারমীন এবং ডাক্তার মমতাজ আরা। ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ভিকটিমের ইউরিন, ব্লাড এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব আলামত সংশ্লিষ্ট দফতরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসবের ফল আসার ওপর নির্ভর করছে রিপোর্টের সম্ভাব্য তারিখ।

 

 

 

ইভানের বাবার বক্তব্য : ইভানের বাবা বোরহান উদ্দিন বেলাল বলেন, ‘আমার ছেলে যে কোনো ধরনের খারাপ কাজ করতে পারে, তা আমার জানা ছিল না। এবারই প্রথম জানলাম। আমি বনানী কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি প্রার্থী। আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আমিই সভাপতি হব। ঢাকায় আমার জমিজমা, বাড়ির পাশাপাশি মুদি দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান, কাপড়ের দোকান (ইতি ফেব্রিক) আছে। তবে ইভানকে দেশের বাইরে (সৌদি আরব) পাঠানোর জন্য সম্প্রতি কাপড়ের দোকান বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ইভানকে দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। ইভান ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে কাপড়ের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছিল।’

 

 

 

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যদি সত্যিই খারাপ কাজ করে থাকে, তবে আমি তার শাস্তি চাই।’ তার অভিযোগ, ওই তরুণীও খারাপ। সে এর আগে একটি বাচ্চা নষ্ট করেছে। ওই তরুণী মামলা করতে চায়নি। পুলিশকে বলেছিল, বাসার ভেতর থেকে আমার ভ্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিলেই চলবে। পরে পুলিশ জোর করে তাকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। মঙ্গলবার ইভানের কোনো জন্মদিন ছিল না বলেও বেলাল জানান।

 

 

 

পুলিশের বক্তব্য : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, ইভানের বাসা থেকে মেয়েটির ব্যাগ এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন জানান, ওই তরুণীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। ধর্ষণের পরীক্ষার পাশাপাশি তাকে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে কিনা, তারও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ওই তরুণী এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com