ads

জানুন শিশুর মেধার বিকাশে পরিবারের ভূমিকা

সন্তান

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক: একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে তখন সে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে আসে। কিন্তু সে তার সে সম্ভাবনার সঠিক ব্যবহার করতে পারবে কিনা তা অনেকটুকু নির্ভর করবে তার পরিবারের পরিবেশের ওপর। পরিবারের ইতিবাচক পরিবেশ যদি সে পায় তাহলে সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। আর যদি না পায় তাহলে তার মেধার বিকাশ সেভাবে হয় না বা মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়।

পরিবার হচ্ছে শিশুর প্রথম পাঠশালা। তবে শুধু শিশুকালেই নয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার সঠিক বিকাশের জন্যে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মেধা হলো একজন মানুষের মধ্যে সুপ্ত এবং প্রকাশিত প্রতিভা, যোগ্যতা, ক্ষমতা যা সে ব্যবহার করে নিজের এবং অপরের কল্যাণ করতে পারে।

যদি শৈশব থেকেই শিশুকে নেতিবাচক কথা বলা হয় (যেমন: তোমার দ্বারা হবে না, তুমি পারবে না) যদি তাকে সব সময় অন্যদের সাথে তুলনা করা হয়, বা তার সাথে নেতিবাচক আচরণ করা হয় (যেমন: অতিরিক্ত শাসন বা আদর) তাহলে তার মেধার বিকাশ ঠিকমতো হবে না।

কারণ যখন তাকে সব সময় নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে, অন্যদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে তখন তার নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে যায়। ফলে সে যে পারে, তার যে ক্ষমতা আছে সেই আত্মবিশ্বাস সে হারিয়ে ফেলে।

একটা সময় এসে তার মধ্যে হতাশা হীনম্মন্যতা নেতিবাচকতা না-শুকরিয়া সৃষ্টি হয়, সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। যার জন্যে সে মানসিক সমস্যায়ও আক্রান্ত হতে পারে। অনেকে আবার এ হীনম্মন্যতা, হতাশা থেকে মুক্তির জন্যে মাদকে আসক্ত হয়।

শিশুকে যদি তার নিজের কাজ করতে না শেখানো হয় তাহলে, সে তার মেধার সঠিক বিকাশ করতে পারে না। উদাহরণ: একটি দশ বছরের মেয়ের হাত থেকে চিরুণী পড়ে গেছে। মা তাকে তা তুলে দিচ্ছেন। যখন ওনাকে বলা হলো, ও তুলে নিক। তিনি বলেন, না ও পারবে না)।

এর ফলে কাজ করার যে মেধা তার মধ্যে আছে তা ঠিকমতো বিকশিত হতে পারে না। তার মধ্যে নির্ভরশীলতা তৈরি হয়ে যায়। আবার পরবর্তীতে যদি কাজ করার সুযোগ সৃষ্টিও হয় সে করতে চায় না বা করার চেষ্টা তার মধ্যে থাকে না।

সাধারণভাবে আমাদের মা-বাবাদের ধারণা হলো সন্তান পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করতে পারলেই সে মেধাবী হবে। তাই সন্তান যাতে পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করে সেজন্য তাকে চাপ দেয়া হয়। এতে করে সন্তান হয় পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে অথবা ভালো ফলাফল করার জন্য মানসিক চাপ অনুভব করে। যার কোনটাই আসলে তার মেধার সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারে না।

মা-বাবা যদি পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করার জন্যে চাপ না দিয়ে সন্তানকে উৎসাহিত করতেন, সন্তানের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতেন তাহলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করতে পারতো এবং মেধার বিকাশ ঘটাতে পারতো।

অধিকাংশক্ষেত্রেই সন্তানের কিসে আগ্রহ আছে তা অনেক মা-বাবাই চিন্তা করেন না বরং তারা সন্তানের পড়াশুনা সহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। যা আসলে সন্তানের মেধার বিকাশে বাধাগ্রস্থ করে।

এক বাবার খুব ইচ্ছা তার ছেলে ডাক্তার হবে। কারণ তিনি নিজে তা পারেন নি। অথচ ছেলের আগ্রহ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে। কিন্তু বাবার ইচ্ছার বলি হতে হলো তাকে। ফলে সে মেডিকেলে ভর্তি হলো ঠিকই কিন্তু পড়াশুনায় আগ্রহ পায় না, ভালো ফলাফল করতে পারে না। অবশেষে সে হতাশ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে গেলো। একটু লক্ষ্য করলেই আমাদের চারপাশে এরকম হাজারো ঘটনা দেখা যাবে।

যদি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্কের অভাব থাকে বিশেষ করে মা-বাবার মধ্যে যদি সব সময় ঝগড়া, মনোমালিন্য লেগে থাকে, পরিবারে শান্তি না থাকে এটাও শিশুর মেধার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর মনে রাগ-ক্ষোভ, অস্থিরতা, টেনশন, বিষন্নতা, হতাশা সৃষ্টি করে।

আমরা মহিয়সী নারী হেলেন কেলারের কথা জানি। শিশুকালে তিনি তার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন। কিন্তু তার মা-বাবার আন্তরিক চেষ্টাতে তিনি সন্ধান পেলেন অন্ধদের লেখাপড়া শেখানো হয় এমন এক স্কুলের। আজ হয়তো এমন স্কুলের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

কিন্তু তার সময়কালে তা এতো সহজ বিষয় ছিলো না। মা-বাবার এই সমর্থনের ফলেই হেলেন কেলার পড়ালেখার জগতে প্রবেশ করতে পারেন। নিজের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারেন। তার মা-বাবার আগ্রহের কারণেই তিনি শিক্ষক হিসেবে পান এ্যানি সুলিভানকে। যিনি হেলেনের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছিলেন। পরবর্তী জীবনে হেলেন অন্ধদের কল্যাণে সারা বিশ্বে অনেক সেবামূলক কাজ করেন। তিনি একজন সফল বক্তা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

আমাদের দেশে অনেক মেয়েই তার মেধার বিকাশ ঘটানোর জন্যে পরিবারে অনুকূল পরিবেশ পায় না। এখনো অনেক মেধাবী মেয়ে আছে যাদের পড়াশোনা শেষ করার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। সংসার আর পড়াশোনা দুটো চালাতে এতটা হিমশিম খায় যে তাদের অধিকাংশেরই আর পড়াশোনা শেষ হয় না। আর যারা পড়াশোনা চালিয়ে যায় তাদের নিজের চেষ্টার ফলে হয়তো শেষ করতে পারেন।

কিন্তু তাদের সংখ্যা কম। অথচ পরিবারের সদস্যদের একটু সহযোগিতা, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা তাদের মেধার সঠিক বিকাশে অবদান রাখতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা পেলে মেধার বিকাশ হতে পারে তার উদাহরণ হিসেবে আমরা বেগম রোকেয়ার কথা বলতে পারি। তার সময়ে মেয়েদের পড়াশোনার কোন সুযোগ ছিলো না অথচ তিনি তার ভাইয়ের সহযোগিতায় ইংরেজি পড়তে শেখেন। পরবর্তীতে স্বামীর অনুপ্রেরণায় ও সহযোগিতায় তার পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি নিজের পরিচয় সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করেন। নারী শিক্ষায় অবদান রাখেন।

করণীয় :
1. সন্তানকে ইতিবাচক কথা বলুন। ইতিবাচক কথা, প্রশংসা, অনুপ্রেরণা তার মেধার সঠিক বিকাশে সহায়তা করে।

2. সন্তানকে কষ্টসহিষ্ণু ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলুন। বয়স অনুযায়ী তার নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহিত করুন। তার যে কোন বিষয়ে ছোট খাটো সিদ্ধান্ত তাকে নিতে দিন। এভাবে সে আত্মবিশ্বাসী হবে।

3. শুধু পড়াশোনা নয় আর কোন কোন বিষয়ে আপনার সন্তানের আগ্রহ আছে তা লক্ষ্য করুন। কোন কিছু চাপিয়ে না দিয়ে তার ঝোঁক বা ইচ্ছা যে দিকে তাকে সে বিষয়ে উৎসাহিত করুন।

4. সন্তানকে শাসন ও আদর করার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করুন। জীবনের লক্ষ্য চাপিয়ে দেবেন না। তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন। তবে সে লক্ষ্য নির্বাচনে ও অর্জনে তাকে সহযোগিতা করুন।

5. তার কোন বন্ধু বা ভাই-বোনের সাথে তাকে তুলনা করবেন না। সন্তানের সামনে মা-বাবা ঝগড়া করবেন না।

6. স্ত্রী যদি পড়াশুনা করেন তাকে তার পড়াশুনার ব্যাপারে সহযোগিতা করুন। তাকে অনুপ্রেরণা দিন। যতটা সম্ভব ঘরের কাজে তাকে সহযোগিতা করুন। তাহলে তিনি তার পড়ার জন্যে সময় বের করতে পারবেন।

7. পরিবারে পুরুষ সদস্যটি যাতে তার পেশাতে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারেন সেজন্যে বাড়ির পরিবেশ অনুকূল রাখার দায়িত্ব নিতে হবে স্ত্রীকে। স্বামীর পেশায় তার মেধার বিকাশে তাকে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা দিন।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com