ads

অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দিলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে : ওবামা

ওবামা

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মঙ্গলবার তার বিদায়ী ভাষণে গণতন্ত্র রক্ষায় দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দিলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

 

শিকাগোতে হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রায় সব বিবেচনাতেই আট বছর আগের তুলনায় আমেরিকা এখন ভাল ও শক্তিশালী দেশ।

 

বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে তিনি এ বিদায়ী ভাষণ দেন। ভাষণদানের এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ওবামা। এ সময় তার চোখের কোনে জলের ফোঁটা দেখা যায়। পরক্ষণেই আবার সামলে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা গড়ার আহবান জানান।

 

আমেরিকাকে এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা শক্তিশালী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এবার তার ধন্যবাদ বলার পালা। তবে তিনি সতর্কবাণী করেন, অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দিলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

 

তিনি একে অপরের দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে এবং বিভিন্ন বিষয় শুনতে হবে।

 

২০০৮ সালে আশা এবং পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে বারাক ওবামা আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার বয়স এখন ৫৫ বছর। তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি ওবামার কিছু নীতিতে পরিবর্তন আনবেন। আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।

 

ভাষণদানকালে দর্শকদের মধ্য থেকে তাকে আরো চার বছর দায়িত্ব পালনের শ্লোগান ওঠে। এ সময় তিনি বলেন, আমার কিছু করার নেই। কারণ সংবিধানে দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টগণের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর আমেরিকার গণতন্ত্রের হলমার্ক।

 

তবে তিনি বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য এখনও হুমকি হল-অর্থনৈতিক অসমতা ও বর্ণবাদ। তিনি বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বশেষ আপনাদের একটা অনুরোধ করতে চাই-তা হল আপনারা আস্থা রাখুন। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমার সক্ষমতার ওপর নয়, আপনাদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখুন।

 

বিদায়ী ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার শাসনামলের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি তার আট বছরের শাসনামলের সফলতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টানেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বর্ণবাদ আছে বলে স্বীকার করেন ওবামা। তিনি বলেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবার আরও অনেক কিছু করার আছে।

 

২০০৮ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর শিকাগোতেই বিজয় র‌্যালি করেন ওবামা। ২০১২ সালের বিজয় র‌্যালিও তিনি শিকাগোতে করেন। বিদায়ী ভাষণ দেয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটন তাদের শেষ ভাষণ হোয়াইট হাউজে বসেই দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা দিলেন শিকাগো গিয়ে। এর কারণ হিসেবে ওবামা বলেন, তিনি যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানেই শেষ করতে চেয়েছেন।

 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৪৪৫তম বারের মত এয়ারফোর্স ওয়ান নামক বিমানটিতে করে শিকাগোতে যান ওবামা। তার সাথে ছিলেন স্ত্রী ও কন্যা। বিদায়ী ভাষণ দেয়ার সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন।

 

ভাষণের শেষ ভাগে স্ত্রী, কন্যা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ তার প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দেন ওবামা। প্রায় ২০ হাজারের মতো দর্শক সরাসরি সামনে বসে এই ভাষণ শোনেন।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com