ads

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংবাদ২৪.নেট, ঢাকা:  সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলে শ্রেণি পেশার মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এই দেশে কোনো জঙ্গিদের স্থান হবে না। এই দেশে কোনো সন্ত্রাসের স্থান হবে না। তার জন্য আমরা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, মসজিদের ইমাম, জনসাধারণ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবসের এই বিশাল জনসভায়ঢাকাসহ রাজধানীর আশপাশের জেলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। সকাল থেকে সভাস্থলের আশপাশ এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বেলা আড়াইটায় জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রায় ৩৭ মিনিটের বক্তব্যে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন, আগামীর বাংলাদেশের সম্ভাবনা, ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নসহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে ধরেন। পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় যাওয়া থেকে শুরু করে বিএনপি সরকারের আসলে দূর্নীতি লুটপাটের কথা তুলে ধরেন। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা, সরকার উৎত্থাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে বিএনপি নেত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে ঐতিহাসিক দিন। ১০ জানুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও নয় মাসের যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের শাসক ইয়াহিয়া খান জাতির পিতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারতে চেয়েছিল। বিশ্ব নেতাদের চাপ আর বাংলার মানুষের দোয়াতে তিনি ফিরে এসেছিলেন আমাদের মাঝে। আজকের এই দিনে প্রিয় বাংলার মাটিতে ফিরেই তিনি এসেছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অপেক্ষায় ছিলাম, আমার মা অপেক্ষায় ছিলেন। বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করলেও আমরা মুক্ত হয়েছিলাম ১৭ ডিসেম্বর। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে মাসহ আমরা পরিবারের সবাই অপেক্ষায় ছিলাম তিনি কখন বাসায় ফিরবেন।’

‘কিন্তু ১৫ আগস্টের ৭৫ সালে জাতির পিতাকে স্বপরিবারসহ হত্যা করে। আমি ও আমরা ছোট বোন বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে যাই। যোগ করেন তিনি।

জিয়া কারফিউ দিয়ে দেশ চালাতো

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারারাত কারফিউ। জিয়াউর রহমান কারফিউ দিয়ে দেশ চালাতো। এ দেশের মানুষের স্বাধীনভাবে চলার কোনো অধিকারই ছিল। মানুষের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জিয়াউর রহমান তার রাজনৈদিক অভিলাস পূর্ণ করার চেষ্টা করে।’

জিয়া্উর রহমানের শাসন আমলের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার আমলে ১৯টি ক্যু হয়েছিল। ৭৫ এ জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পর দেশে শুরু হয়ে গেলগুম, হত্যার রাজনীতি। শুরু হয় সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের পালা। যারা হানাদার বাহিনীতে গ্রামের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সেই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচার বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিল। ৭৫ এর পর অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দেয়। যারা পাকিস্তানের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, জাতিসংঘে গিয়ে চেষ্টা করেছিল, বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে, যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, উপদেষ্টা বানায়।’

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সরকার বাস্তবায়ন করছে

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এ দেশের মানুষ না খেয়ে থাকবে না। প্রত্যেকের আশ্রয়-চিকিৎসা-শিক্ষা নিশ্চিত হবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এসব আওয়ামী লীগ সরকার পূরণ করে চলেছে।’

পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় গিয়েছে তারা ভোগের রাজধানী করেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় গিয়ে অর্থবিত্ত গড়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধু কী স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে। পঁচাত্তরের পর জাতিকে মাথা উঁচু করে থাকতে দেয়নি ষড়যন্ত্রকারীরা। কারণ তাদের আত্মা ছিল পাকিস্তানে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনো অন্যায় মেনে নেয়নি। তাই ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। আজ কেউ ক্ষুধার জ্বালায় আর্তচিৎকার করে না। আজ হতদরিদ্ররা বিনা পয়সায় খাবার পাচ্ছে। ঘর পাচ্ছে। আগামীদিনে প্রত্যেককে ঘর করে দেওয়া হবে। মানুষ আজ চিকিৎসা পায়। মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌছে দিয়েছি। সবার শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চোরের মন পুলিশ পুলিশ

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, তাদের মুখে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না। তারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী। বাংলার মানুষ একদিন তাদের বিচার করবে। একদিন গণআদালতে তাদের বিচার হবে।’

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেন। একদিন যান তো ১০ দিন যান না। পালিয়ে বেড়ান, ব্যাপারটা কী? এতেই তো ধরা পড়ে যায় যে চোরের মন পুলিশ পুলিশ।’

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, ‘তার কাছ থেকে রাজনীতি শিখতে হবে, গণতন্ত্র শিখতে হবে—সেটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবে মেনে নেবে না। আজকে দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে। দেশের মানুষ সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। মানুষ যখন ভালো থাকে, তখন তার অন্তরজ্বালা সৃষ্টি হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্যের।’

বিএনপির ক্ষমতা গিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দিবে না কেন? তাদের সঙ্গে কারা ছিল। যুদ্ধাপরাধীরা তাদের সাথে ছিল। যাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়েছে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায় তারা কেন দেশকে এগুতে দিবে। অত্যাচার, খুন খারাবি, লুটপাট বাংলা ভাই ছাড়া তারা কিছুই করতে পারেনি। হানাদারবাহিনী যেভাবে লুটপাট করেছে ঠিক সেইভাবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করেছে। উন্নয়ন হবে কীভবে যদি লুটপাটে ব্যস্ত থাকে। আমরা দিয়েছি বিদ্যুৎ। বিএনপি দিয়েছিল খাম্বা। বিদ্যুৎনাই খাম্বা কিনে টাকা শেষ। খাম্বা ছিল বিএনপির নেত্রীর ছেলের কোম্পানি। খাম্বা দিতো। আর খাম্বা রাস্তার পাশে শুয়ে আছে,খাম্বা বিদ্যুতের খবর নাই। এটাই ছিল বাংলাদেশের চেহারা। আজকে আমরা উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে উন্নীত হয়েছি। আর বিদ্যুৎ ১৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা সক্ষম হয়েছি। আজকে বিদ্যুতের হাহাকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে একেক সময় বিএনপি নেত্রী আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করেছে, মানুষের ওপর জুলুম করেছে। তার কাজ একটাই ছিল নির্বাচন ঠেকাবে। কেন নির্বাচন ঠেকাবে। নির্বাচনের সময় হয়েছে, নির্বাচন হবে। তিনি নির্বাচন করতে দেবেন না। নিজেও নির্বাচন করবেন না। এই কথা বলে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা শুরু করল। ২০১৪ তে ৫৮২টি স্কুল পোড়াল। প্রিজাইডিং অফিসার, ছাত্র, শিক্ষক কেউ তার হাত থেকে রেহায় পায়নি। এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও নির্বাচন ঠেকাতে পারল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ সালে আবার শুরু করলো তাণ্ডব। তার বাসা গুলশানে, অফিসও গুলশানে। তিনি বাসা ছেড়ে অফিসে এসে বসলেন। বললেন, তিনি সরকার উত্থাত না করে ঘরে ফিরবেন না। আর সেই সরকার উত্থাত করবেন কীভাবে মানুষ খুন করে। হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে…। এটা ছিল খালেদা জিয়ার আন্দোলন। এরপর যখন জনগণ প্রতিহত করতে শুরু করলো তখন জনগণের হাতে ধাক্কা খেয়ে, কোর্টে হাজিরা দিয়ে ঘরে ফিরে গেলেন।’

জনসভায় আরো বক্তব্য দেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মো. নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com