ads

ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি মারা গেছেন

রাফসানজানি

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানি মারা গেছেন। রোববার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৮০-এর দশক থেকে ইরানের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা রাখেন রাফসানজানি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবে বিশেষ অবদান রাখেন রাফসানজানি। তবে পরে কট্টরপন্থি রক্ষণশীলদের সমালোচনাকারীতে পরিণত হন তিনি।

রাফসানজানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ‘সংগ্রামের সহচর’ হিসেবে উল্লেখ করে আলী খামেনি বলেছেন, তার মৃত্যৃতে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আলী খামেনি আরো বলেছেন, ‘ভিন্ন মত ও ব্যাখ্যা থাকলেও এই দীর্ঘ সময়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি।’

রাফসানজানির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে দাফন করা হবে। এ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে তেহরানের শোহাদা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রায় এক ঘণ্টা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন কিন্তু তারা ব্যর্থ হন।

একটি জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রথম প্রকাশিত হয়, যাতে বলা হয়, ‘ইসলাম ও বিপ্লবের পথে অদম্য রাফসানজানি চিরস্থায়ী জীবনে পাড়ি জমিয়েছেন।’

রাফসানজানির সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ভালো সম্পর্ক ছিল। মৃত্যুর খবর ঘোষণার কিছু সময় আগে হাসপাতালে ছুটে যান রুহানি। এক টুইটে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, ‘বিপ্লবের মহান ব্যক্তিত্ব, ধৈর্য্য ও প্রতিরোধের প্রতীক স্বর্গে গমন করেছেন।’

রুহানির একনিষ্ট সমর্থক ছিলেন রাফসানজানি। ২০১৩  সালে সংস্কারপন্থি এই নেতা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাতে বাধা দেন। পরে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হন রুহানি।

ইরানের এক্সপেডিয়েন্স কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে গার্ডিয়ান কাউন্সিল ও পার্লামেন্টের মধ্যে বিরোধ প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করেন রাফসানজানি।

১৯৩৪ সালে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাফসানজানি। পবিত্র শহর ‘কওম’-এ ধর্মতত্ত্বে পড়াশোনা করেন তিনি। তার সহপাঠী ছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।

ইরাকের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের (১৯৮০-৮৮) শেষ বছরে রাফসানজানিকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন খোমেনি। তার একান্ত প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরাক-ইরান যুদ্ধ শেষ হয়।

ইরানের পরমাণু কার্যক্রম এগিয়ে নিতে মোটা দাগে অবদান রেখে গেছেন রাফসানজানি। তিনি ছিলেন তীক্ষè বুদ্ধির মানুষ। তবে তাকে অনেকে নির্দয় নেতাও বলে থাকেন।

২০০৫ সালে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করেন রাফসানজানি। তবে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কাছে হেরে যান।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com