ads

‘হায়! আমি যদি স্রেফ ধুলামাটি হতাম ….’

কোরআন

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক :

আল কোরআন ৭৮ নং সূরা ‘নাবা’র বাংলা মর্মবাণী
সূরা ‘নাবা’
রুকু ২, আয়াত ৪০, মাক্কী
দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে

১-৫. ওরা কী নিয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? কেয়ামতের মহাসংবাদ নিয়ে? ওরা সুস্পষ্টভাবেই এ নিয়ে মতবিরোধ করছে। করুক! সময় এলেই ওরা জানতে পারবে। (আবারো বলছি) সময় এলেই ওরা সত্যকে জানতে পারবে।

৬-১১. আমি কি জমিনকে বিছিয়ে দেই নি আর পাহাড়কে ভারসাম্য স্থাপক বানাই নি? আমি তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় (নারী ও পুরুষ হিসেবে) বিপরীত ও পরিপূরকরূপে সৃষ্টি করেছি। আমি ঘুমকে করেছি মৃত্যুর রূপক। রাতকে করেছি (মৃতের) আবরণ আর দিনকে করেছি কর্ম ও প্রাণপ্রবাহের প্রতীক।

১২-১৬. আমি তোমাদের ওপর নভোমন্ডলকে সাত স্তরে বিন্যস্ত করেছি। স্থাপন করেছি এক উত্তপ্ত উজ্জ্বল প্রদীপ (সূর্য)। আর বায়ুতাড়িত মেঘমালা থেকে বর্ষণ করেছি অফুরন্ত পানি, যা দিয়ে উৎপন্ন হয় শস্য-লতাগুল্ম, তৈরি হয় ঘন পত্রপুষ্প শোভিত বাগান।

১৭-২০. নিশ্চয়ই (সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়কারী) মহাবিচার দিবস নির্ধারিত আছে। সেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে। তখন তোমরা দলে দলে সমবেত হবে। দৃশ্যমান আকাশকে উন্মুক্ত করা হবে, তা পরিণত হবে দিগন্ত প্রসারিত দরজার পর দরজায়। পাহাড়-পর্বত উধাও হয়ে যাবে মরীচিকার ন্যায়।

২১-২৬.নিশ্চয়ই সেদিন জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে এবং এটিই হবে সীমালঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়স্থল। জাহান্নামে ওরা থাকবে যুগ যুগ ধরে। সেখানে ওরা না পাবে আরামদায়ক ঠান্ডার স্বাদ, না পাবে তৃষ্ণা নিবারণকারী পানি। ওরা স্বাদ নিতে পারবে শুধু দুর্গন্ধময় বিশ্রী ঘন ফুটন্ত পানীয়ের। এটি হবে ওদের পাপের উপযুক্ত প্রতিফল।

২৭-৩০. ওরা কখনো আশঙ্কা করে নি যে, ওদের কাজের জন্যে জবাবদিহি করতে হবে। ওরা একরোখাভাবে আমার বাণীকে অস্বীকার করেছিলো। ওদের প্রতিটি কাজের পূর্ণ বিবরণ সংরক্ষিত ছিলো। (তখন আমি বলবো) এখন স্বাদ নাও নিজ নিজ কৃতকর্মের। ভোগ কর আজাবের পর আজাব।

|| রুকু-২ ||

৩১-৩৫. নিঃসন্দেহে আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে দিনটি হবে সর্বোচ্চ পরিতৃপ্তির। তাদের জন্যে অপেক্ষা করবে আঙুর ও ফুলফল শোভিত বাগান, উচ্ছ্বসিত সুখের পানপাত্র আর সুযোগ্য সমুজ্জ্বল সাথিরা। সেখানে তারা শুনবে না কোনো অসার বাক্য বা মিথ্যা কথা।

৩৬-৩৮. তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এটাই হবে যথোচিত দান ও পূর্ণমাত্রার পুরস্কার। তিনি পৃথিবী ও নভোমণ্ডলের মধ্যে অবস্থিত সবকিছুরই একচ্ছত্র মালিক। তিনি দয়াময়। তাঁর সামনে কথা বলার শক্তি কারো নেই। সেদিন সকল আত্মা ও ফেরেশতারা কাতারে কাতারে নীরবে দাঁড়াবে। দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন সে-ই শুধু কথা বলবে এবং যথার্থ সত্য কথা বলবে।

৩৯. কেয়ামত নির্ধারিত দিনেই হবে এবং এটি চূড়ান্ত সত্য। অতএব যার ইচ্ছা প্রতিপালকের সন্তুষ্টির পথ গ্রহণ করুক।

৪০. আমি তোমাদের অবধারিত শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি। সেদিন প্রত্যেকেই তার সারাজীবনের কৃতকর্ম চোখের সামনে দেখবে এবং সত্য অস্বীকারকারীরা আর্তনাদ করে বলবে, ‘হায়! আমি যদি স্রেফ ধুলামাটি হতাম ….।’

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com