ads

লিখিত পরীক্ষার ১৫ বছর পর ভাইভার কার্ড পেলেন আশরাফ!

আশরাফ

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার ১৫ বছর পর ভাইভার কার্ড পেলেন আশরাফুল ইসলাম দীপু! বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা। আগামী বছরের ২ জানুয়ারি তাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছে।

এই ঘটনার নেপথ্য কাহিনী জানতে বৃহস্পতিবার বিকালে আশরাফ দীপুর সাথে যোগাযোগ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২৪তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী জানান, ২০০১ সালে ২৪তম বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন তিনি। প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস করেও তখন ‘তুচ্ছ’ কারণে মৌখিক পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।

২০০২ সালে অনুষ্ঠিত ২৪তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন আশরাফ। চূড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য ওই বছরের ৮ আগস্ট মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হয়।

আশরাফ দীপুর বাবা আমজাদ হোসেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বভাবতই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করেছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিল স্বাক্ষর সম্বলিত সার্টিফিকেটও ছিল তার বাবার। তখনো মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় হয়নি। সে কারণে আবেদনের সময় আগের সার্টিফিকেটই জমা দেন তিনি।

আশরাফ দীপু জানান, ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের পর সেখান থেকে সার্টিফিকেট নিতে হতো। কিন্তু যখন তার ভাইভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে নতুন গঠিত মন্ত্রণালয় তখন কেবল সার্টিফিকেট দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাছাড়া সময় স্বল্পতার কারণে সার্টিফিকেট তোলা সম্ভব হয়নি। তাই আগের সার্টিফিকেট নিয়েই তিনি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যান। কিন্তু ভাইভা বোর্ড সদস্যরা সেই সার্টিফিকেট প্রত্যাখ্যান করে। পরে মন্ত্রণায়ের সার্টিফিকেট নেয়া অথবা সার্টিফিকেট তোলার জন্য সময় চেয়ে দেরিতে ভাইভা নেয়ার জন্য পিএসসি চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন তিনি। আবেদন গ্রহণের কোনো রিসিট কপি তাকে দেয়া হয়নি। পরে জানানো হবে বললেও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া আর পাননি।

একপর্যায়ে ২০১১ সালে আইনজীবীর পরামর্শে হাইকোর্টে রিট করেন আশরাফ। ওই বছরের ২ জুন হাইকোর্ট রায় প্রকাশের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পিএসসি কোনো ব্যবস্থা না নিলে আশরাফ ২৮ জুন মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার জন্য রায়ের অনুলিপিসহ পিএসসিতে আবেদন করেন।

তার মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হলেও আদালতের নির্দেশিত ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায়, পিএসসি কোনো সাড়া দেয় না। এর মধ্যে হঠাৎ ২০১২ সালের ১ মার্চ তার হাতে এসে পড়ে হাইকোর্ট থেকে নোটিশ। জানতে পারেন রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছে পিএসসি।

২০১৫ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট পিএসসির রিভিউ পিটিশন খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখে। আবারো ৩০ দিনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত মৌখিক পরীক্ষায় ক্যাডারের জন্য বিবেচিত না হলে নন-ক্যাডারে যোগ্য বিবেচনা করতে আদেশ দেন।

কিন্তু তাতেও পিএসসি নির্বিকার। পরে আশরাফুল ইসলাম আদালতের রায়ের কপিসহ চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পিএসসিতে আবেদন করেন। ডিসেম্বরে তাকে ডেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেয়া হয়।

অবশেষে চলতি মাসে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করার জন্য পিএসসি থেকে তার ডাক পড়ে। তিনি উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেন। গতকাল ২১ ডিসেম্বর আবারো ডেকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড হাতে দেয়া হয়। আগামী বছরের ২ জানুয়ারি তার ভাইভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৪-৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন আশরাফুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার বয়স এখন ৪৩ বছর। বিয়ে করেছেন পাঁচ বছরের একটি ছেলেও আছে। পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায় থাকেন। বাবা আমজাদ হোসেন (৬২), স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন নিজ জেলা ঝিনাইদনে ছিলেন। এ বছরই অবসর নিয়েছেন। এখন থাকেন ছেলের সাথেই।

এতোগুলো বছর লড়ে গেছেন আশরাফুল। কিন্তু আশা ছাড়েননি। তাই কোনো চাকরির জন্যও চেষ্টা করেননি। তবে মনে টানে শিল্প সংস্কৃতি চর্চায় লেগে ছিলেন, এখনো আছেন। একাধিক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তার নির্মিত নাটক প্রচারিত হয়েছে।

সবশেষে ১৫ বছর পরে হলেও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় পিএসসি, হাইকোর্ট এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম দীপু।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com