ads

‘আদর্শ ছেলে’র দায় কেউ নেবে না

আদর্শ ছেলে

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক : তৃতীয় শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’তে ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি ভুলভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ও বাংলা একাডেমি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। কুসুমকুমারী দাশের লেখা বহুলপঠিত কবিতাটি বদলে দেওয়া নিয়ে যতই সমালোচনা উঠুক, এনসিটিবি ছাপা সংস্করণকেই শুদ্ধ বলছে। তাদের দাবি, কবিতাটির আগের রূপকে বাংলা একাডেমির পরামর্শে পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের সাথে কেউ কখনও যোগাযোগ করেনি।

 

কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘আদর্শ ছেলে’র আদি সংস্করণের প্রথম লাইনটি হলো— ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইতে এই লাইনকে উল্টে লেখা হয়েছে— ‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে’। কবিতার মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের শব্দগত পরিবর্তন।

 

কবিতার চতুর্থ লাইনে কুসুমকুমারী লিখেছেন, ‘মানুষ হইতে হবে’- এই তার পণ। বিকৃত রূপে ছাপা কবিতায় এই লাইনে ‘হইতে’ শব্দটিকে সম্পাদনা করে ‘হতেই’ লেখা হয়েছে। মূল কবিতার নবম লাইনে লেখা আছে, ‘সে ছেলে কে চায় বল কথায় কথায়’। এই লাইনের ‘চায়’ শব্দটিকে বদলে দেওয়া হয়েছে ‘চাই’ শব্দটি দিয়ে। কবিতার একাদশ লাইনে কুসুমকুমারী দাশ লিখেছিলেন ‘হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান’। এই লাইনে ‘খাট’ শব্দটিকে বিকৃত করে লেখা হয়েছে ‘খাটো’। আর ‘হাতে প্রাণে’র বদলে লেখা হয়েছে ‘মনে প্রাণে’।

 

কবির লেখা মূল চরণ ও বিভিন্ন চরণের শব্দ বদলে দিলেও এনসিটিবি দাবি করছে, এটাই শুদ্ধ। এর জন্য তারা বন্দুক রেখেছে বাংলা একাডেমির কাঁধে। ছাপা সংস্করণটি শুদ্ধ হলে এতদিন কবিতাটি ভুল পড়ানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এনসিটিবি’র সদস্য ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আমাদের এই কবিতাটি সরবরাহ করেছে। প্রতিবছরের পরিমার্জনের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে।’

 

মূল কবিতার চরণ বা শব্দ বদলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাপা সংস্করণে মূল সংস্করণের চারটি লাইন বাদও দিয়েছে এনসিটিবি। মূল কবিতার কবিতার একাদশ থেকে চতুর্দশ লাইনে ছিল— ‘সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ/মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন/কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার/সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার’। মাঝখান থেকে এই চার লাইন বাদ দিয়ে মূল সংস্করণের শেষ দুই লাইনকে প্রথম ১০ লাইনের পরে যুক্ত করে ১২ লাইনে শেষ করা হয়েছে ছাপা সংস্করণের কবিতাটি।

 

কোনও কবির মূল কবিতা থেকে এভাবে লাইন বাদ দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে এনসিটিবি বলছে, ভুল থাকলে বাদ দেওয়া সমীচীন। বাংলা একাডেমি আমাদেরকে সঠিক রূপটি বের করে দিয়েছে। এ বছর বইতে যেটি প্রকাশিত হয়েছে সেটিই শুদ্ধ। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলা একাডেমি ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকৃত কবিতাটি বের করে এনেছে।

 

তবে কবির অনুমতি ছাড়াই এভাবে কবিতার কোনও অংশ বাদ দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে এনসিটিবি’র সাবেক কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কবিতার কোনও বিশেষ অংশ যদি রাখতে না পারা যায় তাহলে পুরোটাই না রাখা ভালো। মাঝামাঝি কোনও জায়গা নেই।’

 

এদিকে, ‘আদর্শ ছেলে’র ছাপা সংস্করণের জন্য এনসিটিবি বাংলা একাডেমির কাঁধে দায় চাপালেও সেই দায় নিতে অস্বীকার করছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘দু’টি সরকারি প্রতিষ্ঠান পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এটা শোভনীয় নয়। তবে এই কবিতাটির বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। বা আমরা কোনও কবিতাও সরবরাহ করিনি।’

 

এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ৭৮ পাতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ লেখায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি কোথাও ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আকারে আবার কোথাও ‘ক’ ও ‘ত’ আলাদা করে লেখা হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু’ বানানটিও ভেঙে ‘ঙ’ ও ‘গ’ আকারে ছাপানো হয়েছে এই বইতে। বানানের এই বিষয়টিকেও এনসিটিবি তাদের অবহেলা হিসেবে মানতে রাজি না।

 

ড. মান্নান বলেন, ‘শিশুদের কাছে সহজবোধ্য করে তুলতে যুক্তাক্ষরগুলো ভেঙে লেখা হয়েছে।’ যদিও একই পাতায় একই বানান দুই রূপেই লেখা হয়েছে। এসব ভুল দেখিয়ে দিলেও ড. মান্নান পাল্টা চ্যালেঞ্জ করেন, কোনও ভুল পাওয়া যাবে না বইগুলোতে। বই বিষয়ে নেতিবাচক ভাবনা থেকেও সরে আসতে বলেন তিনি।

 

শিশুদের সুবিধা বিবেচনায় বানান ভেঙে দেখানোর সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আসলে কিছুই বলতে চাই না। তারাই ভালো বলতে পারবে।’-সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com