ads

স্মার্ট ব্যক্তিত্ব: যেভাবে তৈরি করতে পারি

ব্যক্তিত্ব

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক: সাধারণভাবে ব্যক্তিত্ব-শব্দটি যতটা না আমরা ব্যবহার করি তারচেয়ে ‘পারসোনালিটি’ শব্দটি বেশি ব্যবহার করি। ব্যক্তিত্বকে তৈরি করে পরে সেটিকে স্মার্ট করতে হবে।

তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই ব্যক্তিত্ব মানে কী? ব্যক্তিত্ব কেমন হবে, কীভাবে ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে হবে। ব্যক্তিত্ব বিষয়টিকে আমরা তুলনা করতে পারি সেই ছোট্টবেলায় কাপড় দিয়ে পুতুল তৈরি করার সাথে।

ছোট্টবেলায় মাটি দিয়ে কিংবা কাপড় সেলাই করে আমরা পুতুল বানাতাম। তারপর পুতুলের গায়ে পোশাক পড়াতাম। পুতুলের সৌন্দর্য পরিপূর্ণতা পেত তার সুন্দর রকমারি রঙের পোশাকে। অর্থাৎ প্রথমে কাঠামো ঠিক করতে হবে তারপরে তার ওপরে পোশাক পড়াতে হবে। আমাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব হচ্ছে সেই কাঠামো এবং সেটা ঠিক থাকলে স্মার্ট করা অর্থাৎ রঙিন পোশাক পড়ানো খুব কষ্টের হবে না।

অনেকের মতে ব্যক্তিত্ব মানে হচ্ছে গম্ভীর থাকা, চুপচাপ থাকা, না হাসা, সবার সাথে কথা না বলা, খোলামেলা না মেশা, রাশভারিভাবে চলা ফেরা করা ইত্যাদি।

কিন্তু ব্যক্তিত্ব মানে হচ্ছে সামাজিক মুখোশ নয়, অন্তর্গত শক্তিই হচ্ছে ব্যক্তিত্ব। অন্তর্গত শক্তি মানে হচ্ছে একজন মানুষের মনের গভীরে সঞ্চিত ইতিবাচক তরঙ্গ। এই ইতিবাচক তরঙ্গ অনেক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়। আমাদের চারপাশে অনেক উপকরণ আছে কিন্তু কোন কোন উপাদান মিলে আমার ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে তা আমাকেই ঠিক করতে হবে।

ইতিবাচকতা বা প্রো-একটিভ থাকা,নিয়মানুবর্তী,সময়ানুবর্তী হওয়া। মমতাময় হওয়া। কঠোর পরিশ্রমী, সৎ, বিনয়ী, ধৈর্যশীল, সাহসী, শিষ্টাচারী হওয়া। প্রজ্ঞাবান, ক্ষমাশীল, সহযোগিতার মনোভাব থাকা। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, দানশীল, স্বাবলম্বী হওয়া। দায়িত্বশীল, বন্ধুভাবাপন্ন, ভরসাস্থল হওয়া। বিশ্বাসী, আন্তরিকতা, একাগ্রতা, সত্যবাদী, সুবচনের অধিকারী হওয়া। দেশপ্রেমিক, স্বেচ্ছাসেবী, পরচর্চা/ গীবত থেকে বিরত থাকা। নেতৃত্বের গুণ, স্নেহশীল, ন্যায়পরায়ণ, কাজের প্রতি একনিষ্ঠ, স্থির লক্ষ্য সম্পন্ন।

সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, ধার্মিক, মিশুক, যত্নশীল, নিত্য নতুন বিষয়ের প্রতি আগ্রহী। যা বলেন তা ব্যক্তিগত জীবনে চর্চাও করেন। আরো অনেক গুণ থাকতে পারে। গুণের ক্ষেত্রে সংখ্যা বাড়াতে পারলে ভালো। কিন্তু মূল কয়েকটি গুণ ধারণ করতে পারলে বাকিগুলো এমনিতেই হয়ে যায়। যেমন, স্কুলে একবার ভর্তি হতে পারলেই, স্কুল ড্রেস, জুতো, মোজা, টিফিন বক্স, পানির ফ্লাক্স নিজের জন্যে কেনা হয়ে যায়।

প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে ফান্ডামেন্টাল গুণ কী কী হতে পারে? নবীজীর হাদীস থেকেই তো আমরা জানি।

এক লোক তার হাতটানের অভ্যাস ছিলো। হাতটান তো বুঝি। চৌর্যবৃত্তি কিংবা আরো সহজ করে বললে না বলে অন্যের জিনিস নিয়ে নেয়া। সেই লোক, তার ইচ্ছা হলো ভালো হওয়ার কিন্তু মনে মনে আশা হাতটান ছাড়বে না। তো সে নবীজীকে এসে বললো-ইয়া রসুলুল্লাহ! আমি অত কিছু মানতে টানতে পারবো না, আমাকে শুধু একটা নির্দেশ দিন। সেটাই আমি মানতে চাই। এর বেশি কিছু সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

নবীজী তো দয়ার মন, নরম। তিনি বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, মিথ্যা বলো না। সে লোক তো মহাখুশি। আমাকে নামাজ পড়তে বলা হয় নি, রোজাও রাখতে বলা হয় নি। না খেয়ে থাকলে কতই না কষ্ট হতো। মাত্র মিথ্যা না বলা। এটা কোনো ব্যাপার? এটা যে কত বড় ব্যাপার সেটা বোঝা গেল দুদিন বাদে। রাতে বাসা থেকে বেরিয়েছে, মনে মনে তক্কে তক্কে আছে, কোথায় গেলে ভালো করে চুরি করা যাবে। এর মধ্যে একজন তাকে জিজ্ঞেস করলো, ভাই যাচ্ছো কোথায়? এখন কোনো চোর কি কখনো বলে, যাচ্ছি ভাই চুরি করতে। এখন এটাই তো সত্য কথা। আর এটা না বললে মিথ্যা বলা হবে। আর নবীজী (স) তো মিথ্যা বলতে না করেছেন।

এখন আর কী করা। লোকটি বাসায় ফিরে গেলো। পরের দিনও চুরি করার জন্যে বেরিয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসা, কোথায় যাচ্ছো। শেষ পর্যন্ত সত্য কথা বলতে না পেরে বাসায় ফিরে গেলো। এইভাবে একসময় তার চুরি করার যা একটু অভ্যাস ছিলো, আগ্রহ ছিলো তা চাপা পড়ে গেলো, লোকটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো।

এটাই হচ্ছে কথামতো কাজ। এটাই হচ্ছে ব্যক্তিত্ব। কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে কখনো ব্যক্তিত্ব অর্জিত হয় না। তার মানে ব্যক্তিত্ব অর্জন করতে হলে কথা ও কাজের সাথে মিল রাখতে হবে। যা জানি, যা বুঝি তার কতটুকু আমার জীবনে অনুসরণ করছি সেটা দেখতে হবে।

ব্যক্তিত্ব আরো সুন্দর হয় যখন তা স্মার্ট হয়। ছেলে হলে মেয়েকে, মেয়ে হলে ছেলেকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা স্মার্টনেস নয়। এটা পশুসুলভ প্রবণতা। প্রতিটি পশুই সহজাতভাবে বিপরীত লিঙ্গকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে। সত্যিকার স্মার্ট সে-ই যার আত্মপ্রত্যয় ও গুণাবলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে চারপাশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। যেমনটি আমাদের শ্রদ্ধেয় গুরুজী। তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত লাইফ স্কিল প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচে হঠাৎ করে উপস্থিত হলে সেখানে সবার মধ্যে আনন্দ অনুরণন শুরু হয়ে যায়।

একজন মানুষের প্রকৃত স্মার্টনেস হচ্ছে যখন যেখানে যা করা উচিত তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারা। আর তা তখনই করা যাবে যখন লক্ষ্য থাকবে সেবা করার। যে ভাবতে পারবে, বিশ্বাস করতে পারবে যে, ‘আমি যেখানেই যাবো, যার সাথে দেখা করবো তার জীবনে আনন্দ নিয়ে আসবো।’ উপলব্ধি করবে যে, আমার কষ্টের কারণ যা-ই হোক না কেন, আমি অন্যকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকবো। যিনি যত ভালো সেবা দিতে পারেন তিনি তত র্স্মাট।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com