ads

ডা. এম আর খান: কর্মে খুঁজেছেন জীবনের স্বার্থকতা

এম আর খান

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক: চিকিৎসক, গবেষক, সংগঠক, জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান নিজেই একটি ইতিহাস। তবে সবকিছু অতিক্রম করে দেশে তো বটেই এই উপমহাদেশেও তিনি শিশুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের পথিকৃৎ। ‘মা ও শিশু’ স্বাস্থ্যের কল্যাণে নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ রফি খান। শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ সাধনে সহায়ক অবদান রাখাই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য।

মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন জীবনবোধ, বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতি, দেশে শিশু চিকিৎসা প্রচলনে তাঁর বলিষ্ঠ কর্মতৎপরতার কথা। সাক্ষাৎকারটি নিবন্ধ আকারে তুলে ধরা হলো।

ডা. এম আর খান তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবনের জলছবি’তে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন ‘এ জীবন লইয়া কী করিব?’ এ প্রসঙ্গে যখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নটি জীবনসায়াহ্নে এসেও আমাকে বিচলিত করে। ভাবি, মানুষের জীবনের প্রকৃত সাফল্য ও সার্থকতা কোথায় নিহিত? আমি এখনো এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে ফিরি। প্রত্যেক মানুষই তার নিজ নিজ অবস্থান ও ক্ষেত্র থেকে আর্থসামাজিক বিনির্মাণে অবদান রেখে চলেছেন। একজন কৃষক উদয়াস্ত কঠোর পরিশ্রম করে যেমন করে ফসল ফলান, কিংবা একজন শ্রমিক দিনরাত কায়িক পরিশ্রম করে সচল রাখেন কারখানার চাকা। সেভাবে আমিও আমার অবস্থান থেকে মানুষের জন্য সাধ্যমতো কিছু করে যেতে চাই।’

১৯৪৩ সালে মেট্রিক পাস করার পর এম আর খান ভর্তি হন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। কলেজে পড়াকালীন তিনি হাজী মহসীন বৃত্তি লাভ করেন। ড. কুদরত-ই-খুদা ছিলেন তাঁর সরাসরি শিক্ষক। ১৯৪৬ সালে তিনি ভর্তি হন কলকাতা মেডিকেল কলেজে। মাত্র ৩০ জন মুসলমান ছাত্র ভর্তি হবার সুযোগ পেয়েছিল সেবছর। এর আগে মুসলিম ছাত্রদের জন্য কোটা আরও অনেক কম ছিলো। এম আর খানের নেতৃত্বে ছাত্ররা আসন বৃদ্ধির দাবি জানালে পরবর্তীতে মুসলিম ছাত্রদের ভর্তি কোটা বৃদ্ধি করা হয়।

১৯৫২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন তিনি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়লেন সামাজিক ও সাংস্কৃৃতিক কাজে। স্থানীয় লোকজন এই সুশিক্ষিত তরুণটিকে প্রতিনিধি বানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগল। প্রথমে রাজি না হলেও কাছের মানুষের চাপে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন। ভাবলেন, ভোটে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হলে উন্নয়নমূলক ও সেবাধর্মী কাজের প্রসার ঘটানো যাবে। কিন্তু ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তাঁর বন্ধু সিএসপি অফিসারের চক্রান্তে তিনি নির্বাচনে হেরে যান। এরপর অভিমান করে সাতক্ষীরা ছেড়ে খুলনায় গিয়ে ডাক্তারি শুরু করেন।

এই গল্প শুনিয়ে এম আর খান মুচকি হেসে বলেন, ‘হতাশ হইনি। নিজেকে নতুন করে গোছালাম। ছুটলাম যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন ভাবি, ভাগ্যিস সেদিন নির্বাচনে পাস করতে পারিনি! কে জানে, তাহলে কী হতো!’

এরপর এম আর খানকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুধুই এগিয়ে যাওয়ার পালা। ১৯৫৬ সালে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং বৃটেনের এডিনবার্গ স্কুল অব মেডিসিন-এ ভর্তি হন। সে দেশেই তাঁর চিকিৎসাবিষয়ক মূল পড়াশোনা এবং গবেষণা। অর্থাৎ রসুলপুরের ছনপাতার ছাউনি দেয়া এক বিদ্যালয়ে যে পড়াশোনার শুরু হয়েছিল, তার সমাপ্তি হলো লন্ডন আর বৃটেনের নামকরা মেডিকেল কলেজ থেকে।

জীবনের শুরুতে একটি ব্যর্থতা সামলে নিজেকে কীভাবে নতুন করে সাজালেন? কীভাবে পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনের অভিধান থেকে ‘অসফল’ শব্দটি হারিয়ে গেল? এ ধরনের প্রশ্নে তিনি স্মিত হেসে বলেন, ‘ছোটখাটো ব্যর্থতা যে নেই তা তো নয়, আছে কিছু অতৃপ্তিও। তারপরও যা করতে চেয়েছি মন থেকে চেয়েছি, সফল হব এই মানসিকতা নিয়ে চেষ্টা করেছি। আমার উদ্দেশ্য পরিষ্কার, আমি মানুষের জন্য কিছু একটা করতে আন্তরিক ছিলাম। তারপর সে লক্ষ্যে পরিশ্রম করেছি।’

রসুলপুর সাতক্ষীরা শহরতলীর একটি গ্রাম। ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট এখানেই এম আর খান জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আলহাজ্ব আব্দুল বারী খান, মা জায়েরা খানম। তাঁদের চার ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। বাবা মা, প্রতিবেশী সকলের কাছে ‘খোকা’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। রসুলপুর গ্রামের মেয়ে তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়া আনোয়ারা বেগম আনুর সাথে ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ের নাম দৌলতুন্নেসা (ম্যান্ডি)।
ডা. এম আর খানের নামের পরিবর্তন নিয়ে রয়েছে একটি গল্প। তাঁর ভাষায়, ‘১৯৬৪ সালে আমি যখন রাজশাহীতে বদলী হয়ে গেলাম, দেখি এই অঞ্চলে তখন ‘র’ শব্দটির উচ্চারণ নিয়ে সমস্যা আছে। কেউ আমার নাম বলতো ‘লফি খান’, কেউ ‘নফি খান’। আবার কেউ রফি খান। তখন আমি নাম সংক্ষেপ করে দিলাম, এম আর খান। বর্তমানে এই নামে তিনি দেশে তো বটেই বিদেশেও পরিচিত।

খুলনায় ডাক্তারি করার সময়ই এম আর খান অনুভব করেন শিশুদের সঠিক চিকিৎসা এদেশে নেই। এ ব্যাপারে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেয়া প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ১৯৫৬ সালে তিনি সস্ত্রীক বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশে ভাল চাকরি ছেড়ে নাড়ির টানে চলে আসেন দেশে। বৃটেনে এমআরসিপি পাস করার পর ম্যানচেষ্টার রিজিওনাল হাসপাতাল বোর্ডের কনসালটেন্ট ডা. ডিকশন এম আর খানকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কেন দেশে ফিরতে চাও?’ উত্তরে এম আর খান বলেছিলেন, ‘আপনার দেশে আমার মতো ডাক্তার হাজারটা আছে, কিন্তু আমার দেশে আমার মতো লোক খুব কম আছে’। (সত্যিই তখন বাংলাদেশে শিশু ডাক্তার কেউ-ই ছিল না)। ডা. ডিকশন বললেন, ‘দেশে তোমাকে খুব স্ট্রাগল করতে হবে।’ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ডা. এম আর খান উত্তরে বলেছিলেন- ‘God will help us.’

দেশে ফেরার পর ১৯৬৩ সালে ডা. খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসোসিয়েট প্রফেসর অব মেডিসিন পদে যোগ দেন। পরের বছর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক (শিশুস্বাস্থ্য) পদে যোগদান করেন। শুরু হয় সংগ্রাম আর বিজয়ের পালা। কারণ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ডা. এম আর খানকে যখন পাঠানো হয়, সেখানে কোনো শিশু ওয়ার্ডই ছিল না। তখন রাজশাহী মেডিকেল মাত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন একটি হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ড ছাড়াই তাঁকে বদলি করা হয়। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রুম আছে কিন্তু বেড নেই, রুগী নেই, শুধু আমি একা। ওয়ার্ডে গিয়ে ফিরে আসতাম, কোনো রোগী ছিল না। যেন ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।’

তিনি নিজ হাতে সাজালেন হাসপাতালের ওয়ার্ডটি। পাশাপাশি রাজশাহী শহরে শিশু চিকিৎসার প্রচলন শুরু করলেন। কিন্তু প্রথম দিকে শিশু ডাক্তার হিসেবে তাঁকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। একদিন এক ভদ্রলোক তো বলেই বসলেন, ‘শিশু ডাক্তার আর পশু ডাক্তারের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।’

তিনি কথাটি কানে তুললেন না। বরং সবাইকে বোঝাতে লাগলেন, শুধু বড়দের জন্য নয়, বাচ্চাদের জন্যও আলাদা ডাক্তার লাগে। রাজশাহী হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ড তিনি নিজ হাতে গড়েছেন। বেড ছাড়া শুরু করে তিনি ৩০ বেড-এর একটি পরিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিণত করেছিলেন এটিকে। এভাবেই তিনি দেশে শিশু চিকিৎসার সূচনা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি অধ্যাপক হিসাবে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালের নভেম্বরে তিনি ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ (আইপিজিএমআর) বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এটি ছিল সারা বাংলাদেশে প্রথম পোস্ট। তিনি যোগ দিয়েই পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স প্রবর্তন করেন। ধীরে ধীরে তিনি পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্ট আরো উন্নত করেন এবং দেশে পেডিয়াট্রিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যে কারণে তাঁকে ‘ফাদার অব পেডিয়াট্রিকস ইন বাংলাদেশ’ বলা হয়। ১৯৮৮ সালে অধ্যাপক ডা. এম আর খান তাঁর সুদীর্ঘ চাকরি জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর জীবনেও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাননি এতটুকু। কাজের মধ্যেই যিনি বাঁচতে চেয়েছেন তাঁর পক্ষে তা সম্ভবও ছিল না। যে কারণে ১৯৮৮ সালের নভেম্বর থেকে আমৃত্যু তিনি আইপিজিএমআর-এর ভিজিটিং প্রফেসর, ১৯৮৯ সালের জুন থেকে আইসিডিডিআর`বি-এর অনারারি কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউট্রিশন বিভাগের ‘এমএসসি’ ‘এমফিল’ ও পিএইচডি কোর্সের পরীক্ষক ছিলেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও তাঁর ছিলো অনন্য ভূমিকা। তিনি এই হাসপাতালের শিক্ষক, পরিচালক। তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ধীন জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি। তিনি ১৯৬৫ সালের ১৫ জানুয়ারিতে সর্বপ্রথম কোয়াট্র ভিরিলন ভ্যাক্সিনের প্রবর্তন করেন। এর মাধ্যমে পোলিও মুক্ত আন্দেলনের সূত্রপাত হয়। ‘পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়তে এটিই ছিল প্রথম উদ্যোগ। পরে সরকারিভাবে এই কার্যক্রম আরও জোরালো করা হয়। যা এখন জাতীয় ক্যাম্পেইনে পরিণত হয়েছে। তিনি পোলিও রিভাইটেশন সার্টিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

যুগোপযোগী চিকিৎসা, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সোলার রিনোইবল প্রযুক্তি ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তিনি বিভিন্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের মিরপুরে ১৯৯৮ সালে ২ একর ২৬ শতক জায়গার ওপর তৈরি করেছেন ‘এডভান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশান’। এর অধীনে বর্তমানে ২৬টি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৬৩ সাল থেকে আমাদের দেশের কোনো মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট দেশের বাইরে যেতে পারত না। কারণ আমাদের দেশের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সার্টিফিকেটের কোনো মূল্যায়ন ছিল না। তিনিই প্রথম মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট সার্টিফিকেট কোর্স চালু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ জন টেকনোলজিষ্ট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ১জন ডাক্তারের জন্য ৭জন টেকনোলজিষ্ট প্রয়োজন। সে হিসেবে সারাদেশে এখনো প্রায় ৪ লাখ টেকনোলজিষ্ট প্রয়োজন। দেশের এই মহাশূন্যতা পূরণে তিনি প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অধ্যাপক ডা. এম আর খান তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে বহু জাতীয় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির সক্রিয় সদস্য,উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত ‘মা ও শিশু’ স্বাস্থ্যের কল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন শিশু বিষয়ক সংগঠন, সংস্থা ও হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে এ দেশের শিশুদের কল্যাণে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা-ের অংশ হিসেবে ডা. এম আর খান বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি স্থাপন করেন ‘শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ’। এখান থেকে ৫ লাখ নারী এবং শিশু সরাসরি স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, মাইক্রো ক্রেডিট, পরিবেশ, আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ পানি প্রভৃতি খাতে সাহায্য পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার মহিলা এখান থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বি হয়েছেন। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে মোট ৬টি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ডা. এম আর খানের সৃষ্টিকর্ম এবং চিকিৎসা কর্মের প্রতি সম্মান জানাতে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ কর্তৃক ইতোমধ্যে তাঁর জন্মদিন ১ আগস্ট ‘শিশু সেবা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি তার কর্মময় জীবনের উত্তরসূরীদের সেবামূলক কাজে আরও উদ্বুুদ্ধ করতে ২০১০ সাল থেকে দিনটিতে ‘শিশু বন্ধু স্বর্ণপদক’ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের শিশুবন্ধু স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

ডা. এম আর খান ১৯৯৫ সালে ঢাকার মিরপুরে প্রতিষ্ঠা করেন শিশু হাসপাতাল। বর্তমানে এখানে প্রতিবছর ১ লাখ ৮৬ হাজার শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা করেন শিশু হাসপাতাল। ২০০০ সালে সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা করেন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার এবং যশোর শিশু হাসপাতাল। ২০০৬ সালে ঢাকার মিরপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ’ এবং ২০০৮ সালে ‘ইনস্টিটিউট অব নার্সিং’। ২০ শয্যাবিশিষ্ট এই শিশু হাসপাতালে প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম নির্ভরযোগ্য বেসরকারি হাসপাতাল ‘সেন্ট্রাল হাসপাতাল লি.’। এছাড়া ১৯৯৫ সালে তিনি ধানমন্ডি ৭নং সড়কে (বর্তমানে ১১ নং সড়ক) প্রতিষ্ঠা করেন নিবেদিতা মেডিকেল ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ লি.। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, এই ‘নিবেদিতা’ নামটি বেগম সুফিয়া কামালের পরামর্শে গৃহীত হয়। এতসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও গবেষণার কাজও চালিয়ে গেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ৩৮টি গবেষণাধর্মী রচনা প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তিনি শিশুরোগ চিকিৎসা সংক্রান্ত বই লিখেছেন ৮টি। যা দেশে ও বিদেশে বহুল প্রশংসিত।

ডা. এম আর খান কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে মনোনীত করে তাঁর প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে। ১৯৮৬ সালে শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে অসামান্য অবদানের জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানতুল্য এই কর্মবীর মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু রেখে গেছেন সফলতার অজ¯্র উদাহরণ। তাঁর ভাষায়, ‘গুণ ভরে গুনী যারা, কত নত হয় তারা, তোষে সবাকার মন করিয়া বিনয়’। তাঁর মতে, ‘এমন একটি কর্মময় জীবনের স্বপ্নই তো দেখতাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই কাজ করে যেতে চাই। কাজ ছাড়া সাফল্য আসে না। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের রহস্য হলো; ‘কাজ, কাজ আর কাজ।’ তিনি বলেন, ‘কাজের আমি, কাজের তুমি, কাজ দিয়ে যায় চেনা। কারণ মানুষের পরিচয় হলো তার কাজে’।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com