ads

বাংলাদেশে এসে এতদিনের ধারণাই পাল্টে গেছে ওয়ালশের

ওয়ালশ

সংবাদ২৪.নেট ডেস্ক

কোর্টনি ওয়ালশটেস্ট ক্রিকেটের প্রথম ৫০০ উইকেটের মালিক। টেস্ট ক্রিকেটে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৩০০১৯টি) বল করেছেন তিনিই। কোর্টনি ওয়ালশ সম্পর্কে আর কোনো ভূমিকার দরকার আছে বলে মনে হয় না। ক্যারিবীয় সেই কিংবদন্তি এখন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ। কাল সকালে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন হোটেলে দেশের প্রথম সারির পত্রিকা প্রথম আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশকে নিয়ে আশার কথা শোনালেন তিনি।

পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

*দ্বীপ আর সমুদ্রের মেলবন্ধন দেখে বড় হওয়া মানুষ আপনি।বাংলাদেশ তো সে রকম নয়।এখানে কেমন সময় কাটছে?

কোর্টনি ওয়ালশ: আমার ভালোই লাগছে। খেলা এবং একটা দলের সঙ্গে থাকতে পারাটা সব সময় আনন্দের। শুনেছি এখানেও সমুদ্রসৈকত আছে। সুযোগ পেলে যাব। আমি যাতে এখানে ভালো থাকি, আরামে থাকি, বিসিবি সেটা খুব ভালোই দেখছে। তাদের ধন্যবাদ। তবে সবচেয়ে ভালো লাগবে যদি আমরা কিছু ম্যাচ জিততে পারি। দ্বিতীয়ত, আমি চাই বাংলাদেশকে সত্যিকারের কিছু ফাস্ট বোলার দিতে। কিছু নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে পারলে এবং তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনতে পারলেই বেশি ভালো লাগবে। তখন মনে হবে চ্যালেঞ্জটা জিতেছি।

*বাংলাদেশে আসার আগে এখানকার ক্রিকেট এবং ফাস্ট বোলারদের সম্পর্কে কেমন ধারণা ছিল?

ওয়ালশ: এখানকার ফাস্ট বোলারদের সম্পর্কে খুব বেশি জানতাম না। শুধু জানতাম, এখানকার ক্রিকেটে উন্নতি আনার চেষ্টা চলছে। পরে কিছু পড়াশোনা করে বুঝলাম, বাংলাদেশে কাজ করার জায়গা আছে। আমার ধারণা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে হয়তো প্রতিভার অত গভীরতা নেই। কিন্তু এসে দেখলাম অনেক তরুণ ফাস্ট বোলারই আছে যাদের বোলিংয়ে উন্নতি আনা যাবে। শুধু তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফাইন টিউনিং করতে হবে।

*একজন ভালো ফাস্ট বোলার হওয়ার প্রথম শর্তই তো শারীরিক গঠন ভালো হওয়া।সেদিক দিয়ে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারদের অবস্থা কেমন?

ওয়ালশ: এটা ঠিক, বেশ কয়েকজন ফাস্ট বোলারই আছে যাদের শারীরিকভাবে আরও দৃঢ় হতে হবে। সেটা সম্ভবও, তবে রাতারাতি হবে না। ওদের মধ্যে সম্ভাবনা আছে। ভালো ফাস্ট বোলার হওয়ার সেটাই মূল উপাদান। বোলাররা একবার শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও আরও ফিট হয়ে উঠলে বাকি কাজটা সহজ হয়ে যাবে। টেস্ট খেলার জন্যই ফিটনেসটা বেশি জরুরি। আর টেস্টের জন্য শক্ত হতে হলে আগে ওয়ানডের জন্য শক্ত হতে হবে। এই শারীরিক গঠন নিয়েও ভালো ফাস্ট বোলার হওয়া যায়। সবচেয়ে আশার কথা, এই ছেলেগুলো অনেক পরিশ্রম করে। এটা ধরে রাখলে উন্নতি হবেই।

*ফাস্ট বোলিংয়ে উন্নতির জন্য আর কী কী করা দরকার বলে মনে করেন? শুধু বোলারদের কথা বলছি না।ক্রিকেট বোর্ডেরও নিশ্চয়ই কিছু দায়িত্ব আছে…

ওয়ালশ: আমার মনে হয় মাঠ, উইকেট বা অন্যান্য যেসব অনুশীলন-সুবিধা আছে তা যথেষ্ট। একজন বোলার যখন ওই কাজগুলো করবে এবং শারীরিক সামর্থ্য বাড়াবে, সে ভালো বোলার হয়ে উঠবেই। তবে হ্যাঁ, তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ভালো উইকেট তো দিতেই হবে।

*মাশরাফি, তাসকিন ও মোস্তাফিজ—মূল তিনজন পেস বোলারই ফিটনেস সমস্যায় টেস্ট খেলছেন না।আপনার কী মনে হয়, ফিটনেসের জন্য ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা কতটা জরুরি?

ওয়ালশ: আমার বিশ্বাস, ওরাও ফিট হয়ে যাবে। নির্বাচকেরা নিশ্চয়ই ফিজিও এবং অন্যদের সঙ্গে এই তিনজনের ফিটনেসের ব্যাপারে যোগাযোগ রাখছেন। চোট থেকে ফিরলে তাদের সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনা যাবে। সবার আগে দরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওদের চোটমুক্ত হওয়া। অনেক সময় অনেক বোলার ছোটখাটো চোট নিয়ে খেলা চালিয়ে যায়। কিন্তু তাতে আরও বড় চোটের শঙ্কা থাকে। ব্যাপারটা নির্ভর করে আপনি এসব কীভাবে সামলাচ্ছেন। আশা করি, ভবিষ্যতে আমরা এই জিনিসগুলো নিয়েও কাজ করব।

*ফাস্ট বোলার হিসেবে অসাধারণ ফিটনেস ছিল আপনার।বোলিংয়ে কখনো অনীহা ছিল না।তারপরও বড় কোনো চোটে তো পড়েনইনি, টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল আপনিই করেছেন।কীভাবে সম্ভব হয়েছে সেটা?

ওয়ালশ: আমি কখনো তেমন কোনো চোটে পড়েছি বলে মনে পড়ে না। ক্যারিয়ারে চোটের কারণে একটি টেস্টই মিস করেছি। ওটা ছিল ভারতের বিপক্ষে এবং আমি তখন অধিনায়ক। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট ছিল। ম্যাচের আগে আমি নিজেই নিজেকে আনফিট ঘোষণা করি। আমি সব সময় ম্যাচ ফিট থাকতাম। শারীরিক এবং মানসিকভাবেও। এটা আমার ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে অনেক সাহায্য করেছে।

*ফিটনেস ধরে রাখতে কী করতেন?

ওয়ালশ: সবই করতাম। দৌড়ানো, সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে অন্যান্য এক্সারসাইজ। শরীরের যত্ন নিতাম। বেশি বেশি বোলিং করতাম। আমি মনে করি, বোলিং অনুশীলনটা নিয়মিত করেও ফিটনেস ধরে রাখা যায়। একবার আপনি যদি সর্বোচ্চ ফিটনেস অর্জন করে ফেলেন, আপনাকে এরপর ম্যাচ ফিটনেসের দিকে জোর দিতে হবে। আর সে জন্য নেটে নিয়মিত পরিমাণ বা সময় বোলিং করতে হবে। আমি সেটাই বেশি করতাম।

*এখন তো ফিটনেস ঠিক রাখতে অনেক কিছুই করেন খেলোয়াড়েরা।জিমে অনেক কাজ হয়।ট্রেনার-ফিজিওরাও খেলোয়াড়দের দিয়ে অনেক কিছু করান…

ওয়ালশ: আমি মানি এসব খেলোয়াড়দের সাহায্য করছে। কিন্তু ম্যাচের জন্য বোলিং ফিটনেস অর্জন করতে হলে আপনার বেশি বেশি বোলিং করার সামর্থ্য থাকতে হবে এবং সেই ফিটনেস বোলিং করেই আনতে হবে। ফিটনেসটাকে আরও ওপরের পর্যায়ে নিতে একজন ফাস্ট বোলারের জন্য এর বিকল্প নেই। এটাই মূল কথা। একবার বোলিং করে ম্যাচ ফিটনেস আনা এবং তা ধরে রাখাটাই আসল। জিম, ফিজিও, ট্রেনার—সবকিছুরই প্রয়োজন আছে। কিন্তু নেটে বা ম্যাচে যথেষ্ট বল করে বোলিং ফিটনেস আনা পুরোপুরি বোলারের চেষ্টার ওপর নির্ভর করে।

*বাংলাদেশের দু-একজনের নাম কি বলবেন, যাঁদের মধ্যে ভালো ফাস্ট বোলার হওয়ার সম্ভাবনা দেখেন?

ওয়ালশ: সব ফাস্ট বোলারেরই সম্ভাবনা আছে। কারও নাম আলাদা করে বলতে চাচ্ছি না। নেটে কিছু বোলার দেখেছি, যাদের ভালো সম্ভাবনা আছে। যে ছেলেগুলোকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নেওয়া হলো, তাদের কথাও বলছি। এই সিরিজের পর আমি ওদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করতে চাই, এটা আমার অনুরোধ। তাদের কিছু কাজ দিতে চাই। যেন ফিরে এসে দেখতে পারি কে আমার কথামতো কাজগুলো করেছে।

*ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দলে মাত্র দুজন পেসার।একজন একেবারেই নতুন।পেস বোলিং কোচ হিসেবে বিষয়টা কীভাবে দেখেন?

ওয়ালশ: এটা নির্বাচকদের কাজ, তাঁরাই দল নির্বাচন করেছেন। আমার জন্য এখানকার কন্ডিশন নতুন। কাজেই কোন জিনিসটা এখানে কাজ করবে, আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই। আশা করি, এই দল নিয়েই ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমরা ভালো খেলব।

*খেলোয়াড়ি জীবনে আপনার অনেক অর্জন, অনেক অভিজ্ঞতা।ড্রেসিংরুমে নিশ্চয়ই সেসব খেলোয়াড়দের শোনান, অনুপ্রাণিত করেন…

ওয়ালশ: আসলে এখনো সে রকম সুযোগ পাইনি যে ওদের এসব বলব। এসেই তো খেলার মধ্যে পড়ে গেলাম! কথা বলার সময় পাইনি। তবে দেশের বাইরে গেলে বা সফরে থাকলে নিশ্চয়ই সময় পাব। তখন আমরা আরও কাছাকাছি থাকব। একে অন্যকে ভালো করে জানব।

Facebook Comments

এ সংক্রান্ত আরো খবর




সম্পাদক: আরিফা রহমান

২৮/এফ ট্রয়োনবী সার্কুলার রোড, ৫ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা।
সর্বক্ষণিক যোগাযোগ: ০১৭১১-০২৪২৩৩
ই-মেইল ॥ sangbad24.net@gmail.com
© 2016 allrights reserved to Sangbad24.Net | Desing & Development BY Popular-IT.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com